টিকা বিতর্ক: বিশ্বজুড়ে ভ্যাক্সিন দেয়া না দেয়া নিয়ে বিতর্ক

0
1164
টিকা বিতর্ক: বিশ্বজুড়ে ভ্যাক্সিন দেয়া না দেয়া নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভ্যাক্সিন বিরোধী মনোভাব। এরই অংশ হিসেবে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করবেননা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। টিকা তার কুকুরের প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খবর এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস, সিএনএন।

অতীতে, মুসলিম দেশসমূহে টিকাদানে অনিহা থাকলেও এখন পশ্চিমা বিশ্বসহ ব্রাজিলের মতো রাষ্ট্রেও টিকাদানে অনিহা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমেই বিশ্বেই দানা বাধতে শুরু করেছে টিকা বিরোধী মনোভাব।

https://bit.ly/37KlqLC

গত কয়েকমাস পূর্বে ‘দ্য বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ করোনার ভ্যাক্সিনের জন্য আর্থিক অনুদান দিলে সৃষ্টি হয় চরম বিতর্ক। ঐ সময় পশ্চিম বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব ও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, বিল গেটস ও একটি চক্র পৃথিবীতে মানুষ কমাতে চাচ্ছেন। অভিযোগ তোলা হয় টিকার মাধ্যমে মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেবার।

বিল গেটস ২০১৫ সালে কানাডার ভ্যাংকুভারে এক সম্মেলনে দেয়া ভাষণে বলেছিল, ‘আগামী কয়েক দশকে যদি ১ কোটি লোকের মৃত্যু হয় – তবে সেটা যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং সেটি সংঘটিত হবে সংক্রামক ভাইরাসের মাধ্যমে। ‘

তখনকার এ ভাষণে কোন কিছু বুঝা না গেলেও ২০২০ সালে এসে করোনা ভাইরাসের অজুহাতে গোটা পৃথিবীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সৃষ্ট লকডাউন বিপর্যয়ের পর অনেকের কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার।

পশ্চিমা বিশ্বে মানুষের ধারণা, এই চক্রটি পৃথিবীকে জনশূন্য ও নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে, কেউ বলেন তারা মানুষের শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিতে চান, কেউ বলেন তারা টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করতে চান। কানাডার ভ্যাংকুভারের বিল গেটস প্রদত্ত ওই ভাষণটি ছিল তারই ইঙ্গিত।

যুক্তরাষ্ট্রের এক চতুর্থাংশ মানুষ এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান বিশ্বাস করে বিল গেটস কোভিড-১৯ টিকা ব্যবহার করে মানুষের চামড়া নিচে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিতে চায়। এই জরিপটি চালিয়েছিল ইয়াহু নিউজ এবং ইউগভ।

এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার উলামা কাউন্সিল এক ফতোয়ায় টিকা গ্রহণ হারাম ফতোয়া দেন। হাম, কলেরা, ভ্যাক্সিনে শুকরের জেলাটিন সংশ্লিষ্টতায় হারাম ফতোয়া দিয়েছিল তারা। এরপর থেকেই ইন্দোনেশিয়রা বিরত ছিলেন টিকাদানে। পরে অবশ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে ফতোয়া থেকে পিছু হটে উলামা কাউন্সিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ আর তাদের সন্তানদের টিকা দিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেননি।

https://www.sciencealert.com/indonesian-global-vaccine-action-plan-immunisation-rates-fall-following-fatwa

একইভাবে মালয়েশিয়াতেও ঘটেছিল টিকা বিরোধী বিতর্ক। ভ্যাকসিনে শুকরের জেলাটিন সংশ্লিষ্টতায় টিকা দেয়া থেকে বিরত ছিল তারাও। দেশটিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও মুসলিম এ দেশটিতে এখনও সফলতা পায়নি টিকা কার্যক্রম। কেননা ইসলাম ধর্মে শুকর স্পষ্ট হারাম।

https://www.straitstimes.com/asia/se-asia/anti-vaccine-movement-on-the-rise-in-malaysia

সম্প্রতি ফাইজারের করোনা টিকা নেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বসে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির হাসপাতালে এক নার্স। এ ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টেনেসির সিএইচআই মেমোরিয়াল হাসপাতালের নার্স টিফানি ডোভার টিকা নেয়ার পর সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। খবর রয়টার্সের।

তার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন টিফানি। তিনি বলতে শুরু করেন, আমার মাথা ঘুরছে।

ভিডিও দেখা যায়, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন তিনি। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে সুস্থ হয়ে গেলেও এভাবে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও দেখে অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ তার সাতে ফাইজার যে চুক্তি করেছে তাতে পরিষ্কার করে বলা রয়েছে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্য তারা দায়ি হবে না। অর্থাৎ ভ্যাকসিন নিয়ে আপনার যাই হোক না কেন, ফাইজার কিন্তু তার দায় নেবে না। এবার আপনি ভ্যাকসিন নিয়ে কুমির হয়ে যেতে পারেন। আবার আপনি সুপারহিউম্যান হতে পারেন। কোনও পুরুষের গলা থেকে মহিলাদের মতো আওয়াজ বেরোতে পারে। আবার কোনও মহিলার মুখে আচমকা দাড়ি গজাতে পারে। কিন্তু এসব সমস্যা আপনাকেই সামলাতে হবে। ভ্যাকসিন-এর আবিষ্কারক সংস্থা কিন্তু দায় ঝড়ে ফেলবে।’

এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, এটা বিনামূল্যে হলেও বাধ্যতামূলক নয়।

তবে ১৭ ডিসেম্বর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করেছেন, ‘করোনা টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক। তবে, কারও ওপর বলপ্রয়োগ করা যাবে না। আদালত কর্তৃপক্ষ চাইলে টিকা না নেয়া মানুষজনকে জরিমানা অথবা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে।’

অথচ সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জেইর বোলসোনারো বলেছেন, তিনি কখনোই করোনা টিকা নেবেন না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘অনেকেই বলবে, আমি বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করছি। কিন্তু যারা এসব কথা বলে, আমি সেই নির্বোধদের বলছি, আমি ইতোমধ্যেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি, এর মাধ্যমে আমার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তা হলে আমি কেন টিকা নেব?’

ফাইজারের টিকায় মানুষ কুমির হয়ে যাবে; নারীদের গজাতে পারে দাড়ি: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

উল্লেখ্য যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী করোনা ভাইরাসের অতি প্রচারণার পেছনে একটি অশুভ উদ্দেশ্য ছিলো। তারা ১ ঘণ্টার সংবাদে ৪০ মিনিট প্রচার করতো করোনার খবর।

তারা প্রচার করেছিলো- মানুষ যদি জমায়েত হয়, তবে মানবজাতি বিলুপ্ত হবে, লাশের স্তুপ পড়বে। এই তত্ত্ব দিয়ে তারা বিশ্বঅর্থনীতি, শিক্ষাখাতসহ গোটা বিশ্বে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।

ধর্মীয় উপসানলয় বন্ধ করে দিয়েছে, ঈদ করতে দেয়নি, হজ্জ করতে দেয়নি, কোরবানী বন্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মানুষ জমায়েত হওয়ার পরও, শীত আসার পরও লাশের স্তুপও পড়ছে না, মানবজাতি বিলুপ্তও হচ্ছে না।

এ থেকে কিন্তু ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে অতি ভীতি ছড়ানো স্বাভাবিক কোন বিষয় ছিলো না, ছিলো বিশেষ উদ্দেশ্য-লক্ষ্য। তার অংশ হিসেবেই যেহেতু করোনা ভ্যাকসিন আসছে, সুতরাং সেই ভ্যাকসিন নামক বিষয়টিকেও সরল বিশ্বাসে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া টিকা তৈরির মূল উপকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মুসলিম দেশগুলোতে। অনেকেরই অভিযোগ— এই টিকায় ব্যবহার হয়েছে শূকরের চর্বি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন