শিবমন্দির নির্মাণের জন্য মুসলিমদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ; বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গা হল মাদ্রাসাসহ ২ মসজিদ

5
1242
শিবমন্দির নির্মাণের জন্য মুসলিমদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ; বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গা হল মাদ্রাসাসহ, ২ মসজিদ

ভারতের আসাম রাজ্যের দরং জেলায় হিন্দুদের শিবমন্দির নির্মাণের জন্য সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আশ্রয়চ্যুত মুসলিমদের বিক্ষোভে মালাউন পুলিশ গুলি চালিয়ে ২ মুসলিমকে নিহত করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা হিন্দুত্ববাদী পুলিশের গুলিতে অন্তত দুই মুসলিম নিহত ও কমপক্ষে দশজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে।

একটি সুবিশাল শিবমন্দির নির্মাণের জন্য হাজার হাজার বাঙালি মুসলিমকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার পর গত বৃহস্পতিবার সেই আশ্রয়চ্যুত মুসলিমদের বিক্ষোভে মালাউন পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়।

জানা যায়, রাজ্যের দরং জেলার ধলপুর হিলস ও সিপাহঝাড় এলাকায় প্রায় ৭৭ হাজার বিঘা জমি দখল করে বিশাল একটি শিবমন্দির বানানোর লক্ষ্যে মুসলিমদের বৈধ ভূসম্পত্তিতে আসাম সরকার দফায় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বেশ কয়েক মাস ধরেই।

সেই উচ্ছেদ অভিযানের সর্বশেষ ধাপে গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার ওই অঞ্চলের প্রায় ৮০০ মুসলিম পরিবারের কমপক্ষে ৫ হাজার লোককে তাদের ভিটাবাড়ি থেকে জোড়পূর্বক উচ্ছেদ করে সেই জমি দখল করে নেয় হিন্দুত্ববাদী আসাম সরকার।

তারই প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার দরংয়ে উচ্ছেদ-বিরোধী কমিটির জমায়েতে পুলিশ গুলি ২ জন মুসলিমকে নিহত করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক দেবব্রত দত্ত একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে যে সেল গড়ে তোলা হয়েছে তাদের ডাকে ধলপুর ১, ২ ও ৩ নম্বর গ্রামের কয়েক হাজার মুসলিম গত বৃহস্পতিবার জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে হিন্দুত্ববাদী পুলিশের হামলায় কমপক্ষে দশজন মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে আমরা জানতে পারছি।

সাংবাদিক দেবব্রত দত্ত আরো জানান, আসাম সরকার কর্তৃক জোড়পূর্বক উচ্ছেদ হওয়া সবাই বাঙালি মুসলিম যারা যুগ যুগ ধরে ধলপুরের চরাঞ্চলে বসবাস করছেন।

রহিমা শেখ নামে এক মুসলিম নারী বলেন, “নদীর বুকে বারবার ঘর বাঁধি আর সেই নদীর বুক থেকে বারবার আমাদের খ্যাদায়ে দেয়। অথচ আমাদের এনআরসি, প্যান কার্ড, ভারত সরকারের কাগজপত্র সব আছে।

নিজেরা খাই বা না-খাই সরকারি খাজনা ঠিকই দিয়ে যাচ্ছি। সেই তিরাশি সালেরও কত আগে থেকে আমরা এখানে থাকতেসি। তখন এখানে মন্দির-টন্দির কিছুই ছিল না, ছোট্ট একটা পাহাড় আছিল শুধু!”

অসমে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে নিশানা করা হচ্ছে রাজ্যের ৩৫ শতাংশ জনসংখ্যার সংখ্যালঘু মুসলিমদের। বিজেপির দ্বিতীয় দফার সরকারে হিমন্ত বিশ্বশ্মা মু্খ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শাসক দলের মুসলিম বিদ্বেষ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের সবক টি সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করার পর, গাে-সংরক্ষণের নামে গাে-মাংস নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহল্লাগুলিতে চালানাে হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার সিংহভাগই মুসলিম। অথচ এদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এবার উচ্ছেদের নিশানা অসমের বিস্তীর্ণ চর-চাপুরি অঞ্চলে। সেখানেও বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলিমদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। সম্প্রতি অসমের দরং জেলার সিপাকারে প্রশাসনের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মুসলিম পরিবারগুলোকে আশ্রয়হীন করা হয়েছে। সরকারি জমিতে বেআইনি দখল আখ্যা দিয়ে যাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাদের কেউই হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা পরিবার নয়। কয়েক পুরুষ ধরে তারা অসমের বাসিন্দা। ব্রহ্মাপুত্রের আগ্রাসী ভাঙনে ভিটে-জমি হারিয়ে তারা চর অঞ্চলে বসবাস করে আসছিলেন। ধলপুর, সিপাঝারে যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়, সরিয়ে ফেলা হয়েছে তাদের বাঁশ-টালির মাথাগোঁজার ঠাইটুকু। এভাবেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে  মাদ্রাসাসহ, ২ মসজিদ। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে ভেঙ্গে ফেলা মসজিদের সামনেই খোলা জায়গায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন।

শিবমন্দির নির্মাণের জন্য মুসলিমদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ; বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গা হল মাদ্রাসাসহ, ২ মসজিদ

5 মন্তব্যসমূহ

    • আল কায়দা তাদের মানহাজ অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, একদিন আল্লাহ তায়ালা আল কায়দার হাতেই এই ভারতের বিজয় দান করবেন ইনশাআল্লাহ! আর এরই মাঝে আপনার মতো কিছু লোক চিল্লাবিল্লা আর ঘেওঘেও করে যাবে, কোন লাভ নেই আপা।
      মালাউনরা মারছে মুসলিমরা মার খাচ্ছে আল কায়দা বাচানোর ফিকির ও চেষ্টা করছে, সবাই তো একটা কাজ করছে কিন্তু আপনি কি করছেন?

  1. আপনার বিগত কমেন্টগুলো & আজকের কমেন্ট দেখে আপনাকেই বলতেই হচ্ছে যে, আপনাকে কিছু হলেও যুদ্ধনীতিমালা নিয়ে পড়া-শোনা করা দরকার। না হয় বাচ্চা মানুষের মত কমেন্ট করে নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রমান দিয়ে দিচ্ছেন….!! ধন্যবাদ

  2. তাঁরা হিন্দুদের ভয় পায় না বরং আল্লাহর ভয়ে আল্লাহর জন্য সর্বোচ্চ কুরবানী দিয়ে যাচ্ছেন । যার ফলে আজকে আপনি তাদের সাইটে এসে কমেন্ট করতে পারছেন। আলকায়েদা তো বসে নেই বরং মুসলিম উম্মাহর চিন্তায় আর তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম করায় তাদের ঘুম নেই । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এসব বিষয় ফিকির করা কি শুধু আলকায়েদার জন্য জরুরি ? অন্যদের জন্য জরুরি নয়? অন্যান্য প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের জন্য জরুরি নয়? সমস্ত মুসলমানদেরকে জন্য জরুরি নয় ? তাই আপনি কোন হক জামায়াকে এভাবে কিছু বলার চেয়ে এভাবে চিন্তা করুন এবং নিজেও মুসলিম উম্মাহর সাহায্যে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সবোর্চ্চ ত্যাগ স্বীকার করুন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন