সালমান খুরশিদের বাড়িতে হিন্দুত্ববাদীদের আগুন : স্যেকুলারিসমের চশমাটা এবার খুলে ফেলা যায় কি?

উসামা মাহমুদ

6
1709
সালমান খুরশিদের বাড়িতে হিন্দুত্ববাদীদের আগুন : স্যেকুলারিসমের চশমাটা এবার খুলে ফেলা যায় কি?

সাবেক ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। সাধারণ মুসলিম থেকে ক্ষমতাবান – কেউই যে হিন্দুত্ববাদী আক্রোশ থেকে রেহাই পাবেনা, এই হামলা তারই ইঙ্গিত বহন করে।

সদ্য সালমান খুরশিদের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের নাম ‘সানরাইজ ওভার অযোধ্যা, নেশনহুড ইন আওয়ার টাইমস’। বইয়ে ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের’ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে তুলনা করেছে সালমান। কারণ হিন্দুত্ববাদীদের উদ্ধ্যত আচরণ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তারা মুসলিম মুক্ত অখণ্ড ভারত গড়তে মুসলিম রক্তখেকো হয়ে উঠেছে। মুসলিমদের জান মালকে তারা বিভিন্ন ঠুনকো অযুহাতে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ লেখক ও রাজনীতিবিদের ভাগ্যেও তেমনটাই হয়েছে।

খুরশিদ তার বইতে লিখেছিলেন, সন্ত আর মহাত্মাদের জন্য প্রসিদ্ধ সনাতন হিন্দুধর্মকে ঠেলে সরিয়ে এখন উগ্রবাদী চিন্তাধারা নিয়ে আসা হচ্ছে। যার সাথে মিল রয়েছে আইএস, বোকো হারামের মত সংগঠনগুলোর।

এতেই বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, ওই বইতে হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত দেয়া হয়েছে। আর এর পরেই, উগ্র হিন্দুরা খুরশিদের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে।

সালমান খুরশিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তার নৈনিতালের বাড়িতে আগুনের দীর্ঘ শিখা, পোড়া দরজা এবং ভাংচুর করা জানালা। এটাই হচ্ছে ভারতের আসল বাস্তবতা। ভারতীয় মুসলিমদের এ বাস্তবতা উপলব্দি করা উচিৎ। অন্যথায় আফসোস করেও কোন লাভ হবে না।

আজীবন হিন্দুত্ববাদী ভারতের সেবা করেছেন সালমান খুরশিদ, অসাম্প্রদায়িকতার বাণী আওড়িয়ে মুসলিমদের প্রতিবাদবিমুখ করেছেন সালমান খুরশিদের মতো নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা, শেষরক্ষা হলনা। আজ তাদের জানমালও অনিরাপদ। অসাম্প্রদায়িকতার বাণী প্রচার কিংবা কংগ্রেসের আশ্বাসবাণী – কোনটিই এই হিন্দুত্ববাদের আগুন নিভাতে পারেনি।

তাই সালমান খুরশিদের পরিণতিতে ভারত-বাংলাদেশ সহ গোটা উপমহাদেশের কথিত অসাম্প্রদায়িকতা প্রচারকারীদের ভেবে দেখতে হবে যে, এই কাল্পনিক গালগল্প ছেড়ে বেড়িয়ে আসার সময় হয়েছে কিনা, নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হিন্দুত্ববাদের দাসত্ব থেকে বাঁচাতে সতর্ক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানোর সময় হয়েছে কিনা।

তার আগে তাদের এই সত্যও উপলব্ধি করতে হবে যে, উপমহাদেশের হিন্দুত্ববাদী সমাজ কখনো অসাপ্রদায়িক ছিল কি না…
নাকি এটাও হিন্দুত্ববাদীদের চাল ছিল.?!. তারা এতদিন তাদের মধ্যেকার অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ পড়া লোকদের সামনে ঝুলিয়ে রেখেছে.. আর অবুঝ মুসলিমরা বলেছে, ‘দেখ, হিন্দু সমাজ কি অসাম্প্রদায়িক চেতনা লানন করে! তাদের সমাজ কতো এগিয়ে গেছে পশ্চিমাদের মতো! আর তোমরা এখনো মধ্যযুগীয় সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে পরে আছো.?!. এসো আমাদের দলে, সেকুলার হও, অসাম্প্রদায়িক হও.. হিন্দুদের মতো, পশ্চিমাদের মতো এগিয়ে যাও।’

এভাবে সেকুলারিজমের চশমা পরিহিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার নামধারি মুসলিমরা মুসলিম সমাজকে সেকুলারিজমের চশমা পড়িয়ে দিয়েছে। মুসলিমদের ধর্মবিমুখ করতে এবং আলেম সমাজ থেকে দূরে রাখতে তারা সর্বস্ব নিয়োগ করেছে। এমনকি রাষ্ট্রকে পর্যন্ত তারা প্রভাবিত করে মুসলিমদের সক্তিমত্তাকে তয়ানিতে নামিয়ে এনেছে।

আর অপর দিকে, স্যেকুলারদের আড়ালে লুকিয়ে হিন্দুত্ববাদীরা শক্তি সঞ্চার করেছে। এক আরএসএস’এর প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত সদস্য রয়েছে, যা তারা এখন গরবের সাথেই বলে বেড়ায়। এর সাথে যদি যোগ করা হয় পুলিশ-প্রশাসনকে এবং ভারতীয় সেনাদেরকে, তাহলে সংখ্যাটা কতো দাঁড়াবে..? ভেবে দেখুন।

এটা অন্তত সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা যে, ভারতের পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী – সর্বত্রই এখন হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। পুলিশ এখন দিল্লী, ত্রিপুরা, আসাম সহ অন্যান্য সকল রাজ্যে হিন্দুত্ববাদীদের সাথে মিলে মিশে মুসলিমদের উপর হামলা চালায়।
আর ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে বছরের পর বছর মুসলিমদের হত্যা আর নারীদের ধর্ষণ করে হাত পাকা করেছে। বিএসএফ বাংলাদেশ-পাকিস্তান উভয় সীমান্তে মুসলিমদের পাখির মতো গুলি করে নিশানা ঝালিয়ে নিচ্ছে। আর এখন সাধারণ হিন্দুদেরকে দলে ভিরানর চেষ্টা চলছে…

এর পরেই হয়তো শুরু হবে হিন্দুত্ববাদীদের অখণ্ড ভারত নির্মাণের চূড়ান্ত মিশন। বাংলাদেশে এর আঁচ পৌঁছাতে বা মিশন বাস্তবায়ন করতে হয়তো একটু সময় লেগে জেতে পারে। কিন্তু খুব বেশি সময় যে লাগবে না, সেটা কুমিল্লার ঘটনায় কিছুটা বুঝা গেছে। তবে ভারতে এই প্রক্রিয়া তারা প্রায় শুরু করেই দিয়েছে।

এখন সালমান খুরশিদদের মত ভারতের কথিত অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাধারি মুসলিমরা হয়তো আছ করতে পারছে যে নিজ সম্প্রদায়কে নিস্তেজ করে দিয়ে তারা কি ভুল করেছে। তাদের মত অসাম্প্রদিয়িকতার পোশাক পরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখন হিন্দুত্ববাদীদের চোখরাঙানিতে স্তে আস্তে চুপ হয়ে যাচ্ছে, একদিন হয়তো তারা তাদের কথিত স্যেকুলার পোশাকো খুলে ফেলবে। তবে সালমান খুরশিদরা যে বাঁচবেনা হিন্দুত্ববাদের আগুন থেকে – এটা এক প্রকার নিশ্চিত।

6 মন্তব্যসমূহ

  1. সাধারন মুসলিম আক্রমনের শিকার হলে, তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে। আর এই চাটুকার মার্কা বুদ্ধিজীবীরা আক্রমনের শিকার হলে আনন্দে হাহাহাহা করে উঠি।

    • মুসলিম বলে আমরা সবাই ভাই ভাই। তাই কোন মুসলিমের কষ্ট যাতে আমাদের ব্যথিত করে।হতে পারে সে আগে ভুল করেছিলো বা বাস্তবতা বুঝে নাই।
      আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন।আমীন

  2. R
    সাম্প্রতিক জিহাদ সমর্থক ভাই-বোনদের গ্রেফতারি ও তৎসংশ্লিষ্ট কিছু কথা

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.

    মুহতারাম ভাই ও বোনেরা!

    গত কিছু দিন পূর্বে বাংলাদেশে আমাদের বেশ কিছু সমর্থক ভাই ও বোন গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের নামও আমরা অতিসচেতনভাবেই এড়িয়ে যাচ্ছি, কেননা এই ফোরামে সেই ভাই-বোনদের নাম উল্লেখ করাটাও হয়তো তাদের জন্য ঝুঁকি সাব্যস্ত হবে। আল্লাহ উনাদের সম্মানজনক মুক্তিকে ত্বরান্বিত করুন। দ্বীনের পথে অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। এর সাথে জড়িত তাগুত বাহিনীর প্রতিটি সদস্য থেকে বদলা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
    এই ভাইয়েরা যে নিতান্তই সাধারণ ইসলামপসন্দ ও জিহাদপ্রেমী যুবক-যুবতী, তা তো জিহাদি আন্দোলন সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা ব্যক্তি মাত্রই অবগত। শুধু এই ভাইয়েরা-ই নন, ইতিপূর্বেও অসংখ্য জিহাদপ্রেমী ভাই ও বোন গ্রেফতার হয়েছেন, যাদের কেউ হয়তো কোন ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন, অথবা লাইক দিয়েছেন অথবা অন্য কিছু করেছেন, যা একজন মুমিনমাত্রই ইমানের তাকাজায় করতেন।
    কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে আজ সমগ্র কুফরি বিশ্ব ও তাদের দোসরেরা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও জিহাদপ্রেমীদের গ্রেফতারের নানা ধরণের ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছে। ইতিপূর্বে আমরা এই সকল বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছি। কিন্তু আমাদের কতক অবুঝ ভাই বারবার আমাদের সেই সতর্কতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন। আর তাগুতের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। আল্লাহ সবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুন। আমীন। তো এই পরিস্থিতিতে কিছু পয়েন্ট আলোচনা করতে চাই-

    ১- ভাই-বোনেরা কেন গ্রেফতার হলেন?
    এই কথার সহজ উত্তর হল তাগুত বাহিনীর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সেই ফাঁদগুলোর মাঝে রয়েছে- মুজাহিদিন বা কারাবন্দীদের নামে সাদাকা কালেকশন করা বা সাদাকাতে অংশ নেওয়া, তাগুত কর্তৃক তাদের মোবাইল বা পিসিতে অথবা তাদের সামাজিক মাধমের ইনবক্সে ভাইরাসযুক্ত ফাইল প্রেরণ, অর্থাৎ যেকোনভাবে তাদের আইপি অথবা নাম্বার লিক করার মাধ্যমে তাগুত বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

    ২- মুজাহিদদের নামে অনলাইনে সাদাকা উত্তোলনকারীদের থেকে দূরে থাকুন!
    অনেকে আল কায়েদা অথবা অন্য কোন জিহাদি দল বা ব্যক্তির নামে অনলাইনে সাদাকা উত্তোলন করে থাকে। এটি যেই করুক, বহু বছরের পুরনো কোন জিহাদি সেলিব্রেটি আইডিও যদি করে, তাহলে নিঃসন্দেহে তাকে সন্দেহ করুন! ৯৯% সম্ভাবনা আছে সে তাগুতের সদস্য, অথবা সে কোন আবেগি জিহাদ সমর্থক, সে কেমন যেন নিজেকে ধ্বংসের পাশাপাশি আরও বহু সাধারণ লোকদেরকে বিনামূল্যে তাগুতের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। আপনারা হয়তো ‘দারুল জান্নাত’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের কথা জেনেছেন, যেখানে যুক্ত অন্তত ৪০+ জিহাদপ্রেমী যুবক ভাইকে গ্রেফতার হতে হয়েছে। আপনি সংখ্যাটা চিন্তা করুন! ৪০ জন লোক তাগুতের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে! আমার মাঝে মাঝে আফসোস লাগে, আমাদের যুবক ভাইয়েরা এতো আবেগি ও অস্থির কেন? কেন তারা স্বেচ্ছায় নিজেদেরকে তাগুতের হাতে তুলে দেন? কেন তারা আল কায়েদার উমারা ও তাদের সতর্কতাকে অবমূল্যায়ন করে? ইয়া আসাফা!!

    ৩- অনলাইন জিহাদি আইটি বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন!
    সম্প্রতি অনলাইনে আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বেশ কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে, যারা নিজেদের নামের সাথে উস্তাদ যুক্ত করে নিজেদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা নিজেদেরকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবেও জাহির করছেন।
    এখানে প্রসঙ্গক্রমে একজন্য ব্যক্তির ব্যাপারে বলতে চাই, তিনি ‘আবু ইয়াহিয়া’ নামে পরিচিত। আমরা তার বেশ কিছু পোস্ট ও লেখনী পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। এই ব্যক্তি যেসব নিরাপত্তানিত টিপস শেয়ার করছে; সেগুলো মূলত বিভিন্ন জিহাদি সোর্স থেকে নেওয়া, পাশাপাশি তিনি নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু যোগ করে আইটি বিষয়ে নানা সমাধান দিচ্ছেন। আর দাবি করছেন এগুলো উনিই লিখেছেন। এখানে আরও শঙ্কার বিষয় হল, এই ধরণের ব্যক্তিরা নিজেদেরকে আল কায়েদা সমর্থক অথবা সদস্য বলে দাবি করছেন। আমরা এই ব্যক্তিকে ভালো-মন্দ কিছু বলতে চাই না, তবে তিনি নিজেকে যেভাবে পেশ করছেন, সেটি নিঃসন্দেহে সন্দেহের উদ্রেক করে-
    এ সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দু’টি মূলনীতি আমি সম্মানিত ভাইদের কাছে পেশ করতে চাই-
    ক- জিহাদি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট আইটি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার উত্তর অনলাইনে যার তার কাছ থেকে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। আমরা আপনাকে উৎসাহ দিবো আপনারা অবশ্যই আল কায়েদার অফিসিয়াল ফোরাম ও ওয়েবসাইটগুলোতে জিজ্ঞাসা করুন। এছাড়া যে কোন ব্যক্তিকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা থেকে বিরত থাকুন! যদি অফিসিয়াল ফোরাম বা সাইটে উত্তর দেওয়া হয়, তাহলে ভালো আলহামদু লিল্লাহ, অন্যথায় সবর করুন!
    খ- কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইটি সংক্রান্ত কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেও, তা নিয়ে আমভাবে আমাদের পক্ষ থেকে আপত্তি নেই। তবে আপনারা অবশ্যই ‘আল কায়েদার সমর্থক বা অনুসারী অথবা এই সমাধান আল কায়েদার মুজাহিদদের দেওয়া’, এমনটি বলা থেকে বিরত থাকুন! কেননা আপনার এই লেখা ও তার ফলাফলের জিম্মাদারি কেবলই আপনার!

    ৪- আল কায়েদা অনলাইনে সদস্য গ্রহণ করে না!
    আল কায়েদা ফেসবুক, টুইটার, টেলিগ্রাম বা অন্য কোন সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সদস্য গ্রহণ করে না। টাকা তুলে না। কেউ যদি আপনাকে ম্যাসেজ করে এমন কোন কথা বলে তাহলে নিশ্চিত জানবেন সেই ব্যক্তি ভেজাল।
    আবার অনেক ভাইকে দেখা যায় অনলাইনে কেউ জিহাদ নিয়ে দু’ কলম লিখলেই ‘জিহাদি সংগঠনে’ যোগ দেওয়ার ইচ্ছায় তাকে ম্যাসেজ করে বসেন। পরবর্তীতে দেখা যায় উক্ত ব্যক্তি তাকে কারাগারে পৌছিয়ে দিয়েছে। একবার এক ভাই আমাদের ফোরামে মশওয়ারা চেয়েছেন, অমুক লোক অনলাইনে ভালো লেখেন, তার মাধ্যমে আমি তানযিমে যোগ দিতে চাচ্ছি, অথবা তার সাথে অফলাইনে যোগ দিতে চাচ্ছি, আমরা সেই ভাইকে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের বাতলে দেওয়া উসুল অমান্য করেছেন। পরবর্তীতে গ্রেফতার হয়েছেন, যা মিডিয়াতেও এসেছিল।
    এমনিভাবে অনেক লোককে অনলাইনের মাধ্যমে সংগঠন করা বা লোকদেরকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালাতে দেখা যায়।
    এই ধরণের লোকদের থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকা আবশ্যক। কেননা, এই সকল ক্ষেত্রের প্রায় ক্ষেত্রে তাগুতের ফাঁদ বলেই প্রমাণিত হয় এবং সাধারণ ভাইয়েরা গ্রেফতার হন। সুতরাং অনলাইনে কোন তানযিমে যোগ দেওয়া বা কোন তানযিম গড়ে তোলা থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকুন! কেউ এই ধরণের অফার দিলে অতিঅবশ্যই তাকে সন্দেহ করুন ও এড়িয়ে চলুন!

    ৫- অনলাইনে জিহাদি মিডিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার উপায়?
    জিহাদি মিডিয়ার ভাইয়েরা অনলাইনে জিহাদি মিডিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার উপায় রেখেছেন। এই ব্যাপারে ভাইয়েরা কিছু নীতিমালাও রেখেছেন, সে ব্যাপারে সবার অবগত হওয়া উচিত-
    কীভাবে অনলাইনে জিহাদি সংগঠনে যুক্ত হবেন?
    https://justpaste.it/contactalfirdaws
    https://web.archive.org/web/20211116140730/https://justpaste.it/contactalfirdaws
    তবে অংশগ্রহণকারী ভাইদের উচিত হল, যাদেরকে কাজ করে দিবেন, তাদের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হবেন যে তারা আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট ভাই কিনা? কেননা অন্যদের ব্যাপারে আমরা কোনভাবেই দায় নিবো না। পাশাপাশি ফাইল আদান-প্রদানে সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে পড়া যায় বা দেখা যায় এমন ফাইল-ই আদান-প্রদান করা কাম্য। কেননা ফাইল আদান-প্রদানের সময় আপনার পিসিতে ভাইরাস ঢুকে আপনার আইপি ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৬- জিহাদি কাজে টর ব্রাউজার অথবা ভালো মানের ভিপিএন ইউজ করুন!

    সম্মানিত ভাইয়েরা! এই ছিল বিক্ষিপ্ত কিছু কথা। ওয়াল্লাহি এতে কাউকে কষ্ট দেওয়া উদ্দেশ্য নেই ও ছিল না। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চাই। নিজে নিরাপত্তা গ্রহণ করুন! নিরাপত্তার সাথে মুজাহিদদের আকিদা-মানহাজ প্রচার করুন! তাগুত বাহিনীর পাতা ফাঁদে পা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন! সর্বোপরি সকাল-সন্ধ্যার আযকার আদায়ে সচেষ্ট হোন। নিজের জন্য ও আপনাদের সকল মুজাহিদ ভাইদের জন্য দুয়া করুন।

    ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন