রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণের সারসংক্ষেপ

ত্বহা আলী আদনান

4
1727

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ (হাফিজাহুল্লাহ্) দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে জনগণের উদ্দেশ্যে তার প্রথম ভাষণ দিয়েছেন। গত রবিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তিনি দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে তিনি অপপ্রচারকারীদের জবাব, দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, এর কারণ ও উত্তরণের উপায়, দ্বীনের জন্য এই জাতীর কুরবানি এবং ইমারতের মুজাহিদ ও দায়িত্বশিলদের নসিহত করেন। সেই সাথে জনগণকে মহান রবের পক্ষ থেকে আসা ইসলামী হুকুমতের মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং এই মহান নেয়ামতের বিষয়ে অকৃতজ্ঞ না হওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি জনগণকে দেশ ও ইসলামের শত্রুদের নেতিবাচক প্রচারণা দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

সম্মানীত পাঠকদের খিদমতে আমরা উক্ত ভাষণের সারসংক্ষেপ নীচে তুলে ধরছিঃ

نحمده ونصلی علی رسوله الکریم

প্রথমেই আমি আমার প্রিয় ও ভুক্তভোগী জাতিকে শুভেচ্ছা জানাই। আল্লাহ্ তা’আলা আপনাদের পিতা-মাতা, পুত্র ও ভাইদের কষ্ট, শাহাদাত, কারাবরণ এবং সকল প্রকার কষ্টকে কবুল করুন। যারা আহত হয়েছেন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের কষ্ট আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কবুল করুন। আমীন।

আমার প্রিয় ও পীড়িত জাতি!

আমি বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাদের সাথে একটু কথা বলতে চাই এবং আপনাদেরকে এসম্পর্কে কিছু ব্যাখ্যা দিতে চাই।

প্রিয় দেশবাসী! বিশ বছরের ইতিহাস এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা পরীক্ষা আপনাদের উপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে গেছে। আপনারা এবং আপনাদের তরুণ মুজাহিদীনরা এই ২০ বছরের জিহাদে অনেক কষ্ট, জেল, জুলম এবং আত্মত্যাগ সহ্য করেছেন। মুজাহিদিনরা এসবকিছু বিরুদ্ধে নিজেদের কুরবানি পেশ করেছেন এবং আপনাদেরকে রক্ষা করতে তাঁরা নিজেদেরকে ঢাল বানিয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহ্ তা’আলা আপনাদেরকে ও আপনাদের তরুণ মুজাহিদদেরকে এই মহান বিজয় দান করেছেন।

আমি আমার প্রিয় দেশবাসী ও প্রিয় মানুষদেরকে বলছি যে, এখন আপনি এবং আমি আরেকটি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছি।

প্রিয় মুজাহিদীন ভাইরা! আপনারা মহান আল্লাহকে তিনটি জিনিসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন: “আমরা কাফেরদেরকে আমাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করব এবং দখলদারীত্মের অবসান ঘটাব। পরবর্তীতে আমরা একটি ইসলামী সরকার ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব। আর আমরা সারা দেশে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনব।”

প্রিয় জাতি! মুজাহিদিনরা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁরা দখলদারীত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। যতদিন এই দেশে ইসলামি সরকার ও ব্যবস্থা ফিরে না আসবে ততদিন তাঁরা লড়াই করবেন। এবং এই দেশে নিরাপত্তা আনা হবে যেখানে আপনাদের সমস্ত অধিকার, সম্পত্তি এবং সম্মান সুরক্ষিত থাকবে, কারও কোন ক্ষতি হবে না।

আলহামদুলিল্লাহ্, আপনাদের মুজাহিদীন সন্তানরা মহান আল্লাহর সাহায্যে তিনটি প্রতিশ্রুতিই পূরণ করেছেন।

হে জাতি! এখন আপনাদের বিষয়ে আমার কথা হলো,- এই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা এখন আপনাদের উপর ওয়াজিব।

প্রিয় ভাইয়েরা, আল্লাহ না করুন, এই নিয়ামতগুলোর শুকরিয়া আদায় না করে আপনারা যদি অসন্তুষ্ট হন, তাহলে হলে কী হতে পারে একবারও কি ভেবেছেন? আল্লাহ্ না করুন, আপনারা যদি এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করেন, তাহলে আরেকটা আযাব আমাদেরকে পাকড়াও করতে পারে।

এদিকে ইমারতে বসবাসকারী কিছু অজ্ঞ লোক বলছে যে, মানুষ ভয় পাচ্ছে, বেকারত্বের হাহাকার, এবং ইমারতের আবির্ভাবের সাথে দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
সুবহানাল্লাহ্, হে জাতি! এই দাম বৃদ্ধিকে ইমারতের সাথে যুক্ত করা কি ন্যায়সঙ্গত হবে? ইমারতের সাথে কি দুর্ভিক্ষ এসেছিল নাকি এই দেশে আগে থেকেই দুর্ভিক্ষ ছিল?

আমার প্রিয় দেশবাসী!

ইমারতে ইসলামিয়া আপনাদের সাথে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, তাই এখন আমাদের সকলের উচিত! আমাদের প্রভুর কাছে কান্নাকাটি করা, যেন তিনি আমাদের উপর রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন, যাতে আমাদের দেশ থেকে খরা দূর হয় এবং আমাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলি সমাধান করা হয়ে যায়। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে কান্নাকাটি করতে এবং আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন।

আলহামদুলিল্লাহ্, এদেশের ক্ষমতায় যারা আছেন তারা বিশ্বাসঘাতক নয়, পকেট ভরার টাকায় বিজয়ী নয়, তারা অর্থপ্রেমীও নয়। এরাই হল তারা, যারা ইসলামের জন্য এবং আল্লাহর পথে এই জাতির জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আমি এখানে থাকাকালীন, আমি আপনাদেরকে এই জায়গার লোকদের কিছু গল্প বলব, যাতে আপনারা প্রমাণ করতে পারেন যে এখানে যারা শাসন করছে তারা চোর নয়, পকেটমার নয়। প্রাসাদে আসার আগে আমরা এবং আপনাদের মুজাহিদীন সন্তানরা যুদ্ধ করছে, এই প্রাসাদে আমাদের আগে অন্য কেউ ছিল। যখন তারা প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তখন তারা দেশের টাকা নিয়ে পালিয়েছিল, যার ফলে রাস্তায় রাস্তায় টাকা পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

অপরদিকে এখন যারা প্রসাদে আছে, তাদের অনেকেরই বিস্ময় ঘটনা রয়েছে।
যেমন : একজন তরুণ তালিবান আগের সরকারের পালানোর সময় একশত দুই লাখ ডলার রাস্তায় পেয়েছিলেন, অথচ তার টাকা পাওয়ার এই বিষয়টি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানতো না। কিন্তু ঐ যুবক আমার কাছে সেই টাকা এনে জমা দিয়েছে।

এমন আরো অনেকের ঘটনাই রয়েছে, যারা আমার কাছে এমন অনেক টাকা এনে জমা দিয়েছেন। এমনকি তালেবানরা প্রাসাদের বিভিন্ন স্থানে এগারোশো ডলার খুঁজে পেয়েছিল, তাঁরা তা থেকে একটা টাকাও নিজেদের হস্তগত করেনি। বরং তারা আমার কাছে নিয়ে এসেছিল। যতবারই তাঁরা আমার কাছে এ ধরণের টাকা নিয়ে আসতো, আমি তাদের বিশ্বাস ও বিবেকের প্রশংসা করতাম।
হে দেশবাসী, এরা এমনই মানুষ।

সুতরাং যদি আফগান জনগণের অর্থ, যা আমেরিকা ও তাদের পূর্বকার সরকার আটকে রেখেছে, তা মুক্তি পায়, তাহলে আমি নিশ্চিত যে, আল্লাহ্ তা’আলার সাহায্যে দেশের বিদ্যমান সমস্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর জনগণের সমস্যাগুলি মহান আল্লাহ্ তাঁর সাহায্য দ্বারা সমাধান করবেন এবং আফগানিস্তান এই দুর্দশা থেকে বেরিয়ে আসবে। ইনশাআল্লাহ্।

অতএব, হে আমার জাতি! সতর্ক হোন, বিগত শাসনামলের কিছু লোক যারা এ জাতির মধ্যে রয়ে গেছে এবং লুকিয়ে আছে তারা এমন বক্তব্য দিচ্ছে যা গোটা জাতির উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, গোটা জাতি এই বরকতময় ব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ করছে।

আপনার খুব সতর্ক থাকুন, যাতে আপনারা এই শত্রুদের হাতে আবারো জিম্মি না হয়ে যান। আল্লাহ না করুন যে, যদি আপনি এই গোলামদের ফাঁদে পা দিয়ে এমন একটি বরকতময় ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং সরকার সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন বা এটি সম্পর্কে অনর্থক শব্দ উচ্চারণ করেন, তাহলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন।

অতীতে, আমাদের রাত্রিজাপনের জন্য কোন জায়গা ছিল না এবং দিনে অবস্থানের জন্যও কোন জায়গা ছিল না। লুকানোর জায়গাও ছিল না আর ঘুমানোর জন্য নিরাপদ জায়গাও ছিল না। – মহান আল্লাহ এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করেছেন এবং এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছেন যাতে আমরা দিনে শান্তিতে কাজ করতে পারি এবং রাতে ঘুমাতে পারি। আপনারা এতে আরামদায়ক জীবনযাপন করতে পারছেন। আপনারা দিনের পাশাপাশি এখন রাতেও নিরাপদে এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। আপনাদের জন্য নিরাপত্তার কোন সমস্যা নেই, কেউ আপনার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এখন এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় না করলে আল্লাহ আমাদের কঠোর শাস্তি দেবেন।

আমি গুজব শুনছি যে, কেউ কেউ বলছে- তালেবান এসেছে, তাই চাকরি নেই, ব্যবসা নেই। চাকরি অবশ্য সাবেক প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছিল। এমনিভাবে আগের গোলাম সরকার এক গ্রামের বাসিন্দাদের অন্য গ্রামে যাওয়া, তাদের ক্ষেতে সেচ দেওয়া, নিজের ইচ্ছা মত ব্যবসা করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

মহান আল্লাহ্ তা’আলাকে ধন্যবাদ জানাই, এখন আপনি দিন বা রাতে নিরাপদে ভ্রমণ করুন, কাজ করুন, আপনার নিজের ইচ্ছামত ব্যবসা চালান, কৃষিকাজ বা বাগান করুন; আপনি যাই করুন না কেন, কোন সমস্যা নেই; একটি শান্ত এবং নিরাপদ পরিবেশ আপনার জন্য প্রস্তুত। কাজেই চাকরির সুযোগও এখন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপরদিকে পূর্ববর্তী শাসনামলের অর্থলোভী এবং তাদের প্রচারকরা – আফগানিস্তানে হোক কিংবা বিদেশে বসে – তারা এমনভাবে প্রচার শুরু করেছে যে, তালেবানরা এসে আফগানিস্তানে ব্যবসার ক্ষতি করেছে।

হে জাতি! এমন চিন্তা যদি কারো মধ্যে থেকে থাকে, তবে তা হবে সম্পূর্ণ অন্যায়।
প্রিয় দেশবাসী! এদের বিষয়ে সদা জাগ্রত থাকুন। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমি নিশ্চিত যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মহান আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের সমস্যাগুলি দূর করে দিবেন। আমি আশা করি আল্লাহ আমাদের উপর রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং আমাদের-আপনাদের মত এই জাতি গৌরবান্বিত হবে, এবং মহান আল্লাহর শত্রুরা লজ্জিত ও অপমানিত হবে।
আমি আপনাদেরকে এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য অনুরোধ করছি এবং অনুরোধ করছি যে আপনারা অকৃতজ্ঞ হবেন না।

এখন মুজাহিদীন ও ইমারতের কর্মকর্তাদের প্রতি আমার বার্তা এই যে, প্রিয় যুবক ও প্রবীণগণ, ইমারতের কর্মচারীগণ! বিশ্বজগতের রব আমাদের এবং আপনাদের জন্য একটি মহান বিজয় উপহার দিয়েছেন। যদি আপনারা এই নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া না করেন, তাহলে আপনারা কি ভয় পান না যে, আল্লাহ আপনাদের উপর কঠিন শাস্তি নিয়ে আসতে পারেন?

প্রিয় মুজাহিদ ভাইগণ! আপনারা লোকদের প্রতি দয়া করুন, তাদের কষ্ট দিবেন না। এতিমদের মাথায় করুণার হাত রাখুন। এরা এমন এক জাতি, যারা বিশটি বছর আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাটিয়েছে, আপনাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন, তাদের ক্ষতি করবেন না, তাদের নিরাশ করবেন না, জাতির জন্য আপনার দরজা বন্ধ করবেন না। এখন আপনি যদি এই জাতি ও মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করেন, হে মুজাহিদ, তাহলে আল্লাহ আপনাদেরকে কঠিনতম শাস্তি দিবেন।

আপনি কখনোই এমন ভান করবেন না যে, সাহায্যের দরজাগুলি আপনার পিছন থেকে বন্ধ রয়েছে, আপনার উপর শিকল বাঁধা আছে; বা সহায়তার গেটগুলি বন্ধ রয়েছে এবং লোকেরা আপনার সাথে সহজে স্বাক্ষাতও করতে পারছে না, যার ফলে লোকেরা তাদের সমস্যাগুলি আপনার সাথে ভাগ করে নিতেও পারছে না!

আমি বিশেষ করে গভর্নর এবং পুলিশ প্রধানদের এটি বলছি।
হে ভাই! এমনটা কখনো করবেন না। কারণ এরা তো এমন জাতি, যারা আপনাদের জন্য অতীতে তার বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছিলেন। আপনাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন। তাই এখন এই মানুষগুলোকে যেন পূর্বকার সরকারের শাসনামলের মত সপ্তাহ-সপ্তাহ ধরে আপনার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়।
শিকল আর পাহারাদার দাঁড় করিয়ে কাউকে আপনাদের স্বাক্ষাত বা আপনাকে দেখতে দেওয়া থেকে বিরত রাখবেন না।

সমস্ত গভর্নর, কমান্ডার, বিচারক এবং কর্মকর্তাদের প্রতি আমার দৃঢ় আদেশ যে, আপনাদের দরজা সর্বদা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আপনাদের দরজা যদি তাদের জন্য খোলা না হয়, তাহলে আল্লাহর কসম করে বলছি, আল্লাহর রহমতের দরজাগুলো আপনাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তাই আপনারা এই মুসলিম জাতি ও মুজাহিদীনদের সেবা করুন। অকৃতজ্ঞ হবেন না। আপনারা যদি আগের কর্মকর্তাদের মতো আচরণ করেন, তবে তাদের মাঝে আর আপনাদের মাঝে পার্থক্য কী?

আপনারা যদি আল্লাহর আইন রক্ষা না করেন, এ জাতির সেবা না করেন, মুজাহিদদের খেদমত না করেন, তাহলে আল্লাহর প্রিয় হবেন কিভাবে?

কী মনে হয়, যতক্ষণ এই সুন্দর বাংলোতে বসে আছেন, বড় গাড়িতে বসে আছেন, চীরকালই কি এভাবে থাকতে পারবেন?
আল্লাহ তায়ালা এমন শক্তি দিয়ে আঘাত করবেন যে, তা ভাবতেও পারবেন না, কল্পনাও করতে পারবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে এই ধরনের কাজ থেকে হেফাজত করুন।

আমাদের আগে যারা এখানে ছিল তারা বিশ দিন আগেও ভাবতে পারেনি যে তারা পরাজিত বা অন্য কোনো প্রদেশে গিয়ে তালেবান হয়ে যাবে। কিন্তু আসমানী সিদ্ধান্ত ছিল- দশ দিনের মধ্যে তাদের সরকার পরিবর্তন করা হবে। সুতরাং আপনারা যদি আল্লাহর অবাধ্য হন, তা সাধারন মানুষ হোক বা মুজাহিদীন, আল্লাহর জন্য সবকিছু সহজ, তিনি আপনার সাথে সবকিছু করতে পারেন।

যদি খবর পান কোথাও কোথাও কেউ কারও বাড়িতে ভাঙচুর করেছে, কারও দোকান থেকে কিছু চুরি করেছে, তাহলে জেনে রাখুন, তারা মুজাহিদীন নয়, তারা বুন্দুকধারী, তারা চোর, তারা আল্লাহর দুশমন; তারা তো শুধু নিজেদেরকে মুজাহিদীনের মতো বানিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে তারা কখনোই মুজাহিদ নয়।

তাই আমি সকল নেতাদের আমার এই নির্দেশ দিচ্ছি যে, যদি এমন বিশ্বাসঘাতকতায় কেউ ধরা পড়ে, তবে তাদের নিরস্ত্র করুন। আর এবিষয়ে আমাকে অবশ্যই জানাতে হবে যে অমুক এই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আমি বিচারকদের বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের ক্ষেত্রে জনগণের জন্য আপনাদের দরজা খুলে দিন। কম সময়ে মানুষের সমস্যার সমাধান করুন। যদি কোন সমস্যা হয় বা থেকে থাকে, তাহলে সাথে সাথে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা আল্লাহর সাহায্যে সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

প্রিয় ভাই এবং দেশবাসী!
অন্য কথা হলো- যারা আগের সরকারে হয়ে কাজ করেছে, তাদের কেউ কেউ এখন বলছে আমরা এখানে নিরাপদ নই। যদি মুজাহিদিনরা এই লোকদের সাথে প্রতিশোধ নিতে চাইতো, তাহলে ক্ষমতায় আসার আগেই তারা যা করতে পারার তাই করত।

কিন্তু এমনটি করা হয় নি। যদি মুজাহিদিনরা চাইতেন এই লোকদেরকে হত্যা করতে, বেঁধে রাখতে বা কারারুদ্ধ করতে বা তাদের সাথে যে কোনো খেলা খেলতে পারতেন। কিন্তু সেসবের কিছুই করা হয় নি।

সমগ্র বিজয়ের সময়, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে একজন ব্যক্তির ক্ষতি হয়েছে। ২০ বছর যাবত গোলাম সরকার এই মুজাহিদিনদের কত কষ্ট দিয়েছে এবং এই বিজয়ের জন্য মুজাহিদরা কতটা সহ্য করেছেন, তার সাক্ষী আপনারা সবাই।

আমরা এখনও কুরআনে হাফিজ ও মুজাহিদীনদের লাশ রিগ থেকে বের হতে দেখি। যাদেরকে দ্বীনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, শহীদ করা হয়েছিল।
কিন্তু এই জালিম অত্যাচারী লোকগুলো যখন মুজাহিদীনদের হাতে বন্দী হয়েছিল, তারা কি একজনকেও গুলি করেছিল? নাকি তারা একই রকম কোন কষ্ট তাদেরকে দিয়েছিল?
মানবজাতির ইতিহাসে কি এমন ক্ষমা ও সহানুভূতির স্বাক্ষী আছে, যা বিগত সরকার ও জনগণের প্রতি মুজাহিদীনরা করেছেন?

অথচ আমাদেরকে বিশ বছর ধরে তারা পুড়িয়েছিল। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে, এই লোকেরা জীবিত মুজাহিদদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকৃত করেছে, তাদের গায়ে তেল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে।

এরকম শত শত উদাহরণ আছে।

কিন্তু মুজাহিদরা প্রিয় ভূমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর অপরাধীদের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

এমন উদাহরণ পৃথিবীর ইতিহাসে কে দিতে পারবে?

একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, যারা অতীতে এ ধরনের অপরাধ করেছে এবং সাধারণ ক্ষমার সুযোগ পাওয়ার পরেও এখনও তাদের অপরাধ ও কুৎসা চালিয়ে যাচ্ছে, এর মানে এই নয় যে তাদের আবার ক্ষমা করা হবে। হ্যাঁ, জেনে রাখুন তাদের অবশ্যই ক্ষমা করা হবে না। কিয়ামতের দিন তারা তাদের অপরাধের শাস্তি পাবে।

প্রিয় ভাই ও প্রিয় জাতি! আপনার নাম দিয়ে কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সে বিষয়েও আপনারা সতর্ক থাকুন। সরকারী সংস্থাগুলি তাদের নিজস্ব, এবং প্রাক্তন কর্মচারীদের সাথে নিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, একটি শান্ত এবং নিরাপদ পরিবেশে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি বিষয় হল যে, কিছু লোক নারীর অধিকারকে উত্থাপন করছে। এবং তারা বলছে- নারীর অধিকারকে সমুন্নত রাখতে হবে, মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখতে হবে এবং আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেব না।

আমি বলতে চাই, এই লোকগুলো বিগত ২০ বছর ধরে জনগণকে মানবাধিকার দিয়েছে? নারীদের অধিকার কি প্রাক্তন প্রশাসন দিয়েছিল?

আলহামদুলিল্লাহ, অথচ ইমারতের অধিনে নারীর অধিকার দেওয়া হয়েছে। এটি নারীদের সতীত্ব রক্ষা করেছে, তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করেছে।
পুরো আফগানিস্তানে এমন কোনো পুরুষ নেই যে নারীর মর্যাদাকে অবজ্ঞা করে। আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা এখনও অনেক এগিয়ে আছে, এবং আমি আশা করি যে এই ধরনের আরও শিক্ষা প্রদান করা হবে – আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) তাঁর বান্দাদের জন্য যে পদ্ধতি এবং কাঠামো চান সে ভাবেই।

শিক্ষা মুসলমানদের জন্য ফরজ (পুরুষ হোক বা মহিলা)। অবশ্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দার কাছ থেকে শরীয়তের জ্ঞান চান, শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করা বান্দার উপর ফরজ। অন্যান্য বিজ্ঞান, যদি সময় অনুমতি দেয় এবং সুযোগ কঠিন না হয়, প্রত্যেকেই এটি অর্জন করতে পারে – যদি এর সাথে যুক্ত অন্য কোন সমস্যা না থাকে।

মহান রবের শুকরিয়া যে, বর্তমানে মহিলারা নিরাপদ রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আগের সিস্টেম ও প্রতিষ্ঠানে যদি কাজ করা হতো, তাহলে আগের মতই সমস্যা হতে থাকতো, যা আমরা এবং আপনারা দেখেছেন।

এখন বলুন! নারীদেরকে এসব সমস্যায় ফেলা রাখাই কি নারীর অধিকার?

মহান রবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, বর্তমানে যেখানেই মহিলারা বাইরে যান, স্কুলে যান, স্বাস্থ্যের জন্য কাজ করতে যান বা কর্মস্থলে তারা কাজ করেন, সেবা করেন, বা শিশুদের সেবা দিচ্ছেন – তারা সর্বত্র নিরাপদে তাদের কাজ করছেন। আশা করা যায় যে, যেখানে যেখানে সম্ভব অন্যান্য অধিকারও তাদেরকে প্রদান করা হবে। [সমস্ত অধিকার নারীদের দেওয়া হবে] যা প্রতিটি বিভাগে আল্লাহ, রাসূল (সাঃ) এবং মুহাম্মদের শরীয়ত দ্বারা দেওয়া হয়েছে।

সেই সাথে আমাকে আফগান অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার সম্পর্কেও বলতে হবে।

আমাদের আগেকার সরকার কি অন্তর্ভুক্তিমূলক নাকি আফগান অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল? একটি জায়গায় দুটি এজেন্সি কাজ করত এবং দুটিতে তাদের সমর্থকদের জমায়েত হতো। এটা কি সর্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার ছিল নাকি বর্তমান ব্যবস্থাই সর্ব অন্তর্ভুক্তিমূলক?

জনগণের বিচার করা উচিত আশরাফ গনির শাসনামল অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল নাকি বর্তমান সরকার?

এটাই দুনিয়ার নিয়ম- নির্বাচন হোক বা অন্য কোনো উপায়ে- যে দল নির্বাচনে জয়ী হয়, তারা সাবেক কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয় এবং তাদের সরকারে স্থান দেয় না, তাদের লোকদেরকে নিয়ে আসে।

এর স্পষ্ট প্রমাণ বর্তমান মার্কিন ব্যবস্থা, যেখানে পুরানো কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুনদের দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। তারা পূর্বের সকল সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি বিভাগে নিজের লোক নিয়োগ করেছে। এটি কি একটি সর্ব-অন্তর্ভুক্ত ব্যবস্থা? নাকি এমনটা করা হয়েছে আফগানিস্তানে, যেখানে প্রতিটি জাতি এবং প্রতিটি স্তরের লোককে ইমারতে দেখা যায়?

আমি ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান এর দেশীয় এবং বিদেশী নীতি স্পষ্ট করতে চাই।

আমরা সারা বিশ্বকে বলেছি যে, আমরা অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আবার কাউকে আমাদের অভ্যন্তরীন বিষয়েও হস্তক্ষেপ করতে দিব না।
আমি কোনো মিটিংয়ে ইমারতের কোনো নেতা বা জুনিয়রকে একত্রিত হয়ে বলতে শুনিনি যে, আসুন অমুক দেশে নিরাপত্তাহীনতা বা হস্তক্ষেপের বিষয়ে পরামর্শ করি।
তাই জেনে রাখুন! কারও বাড়ি বা দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো নীতি আমাদের নেই।

আমেরিকা আমাদের ভূমি আক্রমণ করে আমাদের জনগণকে শহীদ করলেও আমরা তাদের মাটিতে অপারেশন চালাতে পাররতাম, কিন্তু আমরা তা করিনি। আমরা ভবিষ্যতে কারও ক্ষতি করতে চাই না। তবে আমরা আমাদের জমি পুনর্নির্মাণ এবং আমাদের জনগণের সেবা করার চেষ্টা করছি।

আমরা আমাদের প্রতিবেশী এবং দূরবর্তী দেশগুলিকে বলেছি যে, আমাদের কোন ক্ষতি না করলে, আমরাও আপনার কোন ক্ষতি করবো না। আমরা এখন আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর কথা ভাবছি।

কিছু লোক একটি সিস্টেম বা প্রশাসনিক কাঠামোকে বিশেষ ব্যবস্থা বলে প্রচার করার চেষ্টা করছে, যা আমাদের আগমনের আগে বিদ্যমান ছিল। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা আপনি আর খুঁজে পাবেন না। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাটি খণ্ডিত ছিল। তাদের কোন কিছুই সুশৃঙ্খল এবং সঠিক উপায়ে একত্রিত ছিল না। যে মন্ত্রনালয় থেকে তারা রাজস্ব আহরণ করতো, সেগুলি প্রাসাদ দ্বারা ঘেরা ছিল এবং সমস্ত অর্থ কেবল আশরাফ গনির স্বাক্ষরেই আসত।

আলহামদুলিল্লাহ্, আমরা যখন এখানে পৌঁছেছি, আমরা নিয়মত্রান্তিক কমিশন গঠন করেছি, যাতে নিয়মিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয় এবং কোনো ভুল যেন না হয়- তা নিশ্চিত করা হয়।

আফগানিস্তানে বিদ্যমান ব্যাংকগুলিকে কীভাবে তাদের বর্তমান দুর্দশা থেকে বের করে আনা যায় এবং একটি উপযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করা যায়- তা নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা একটি অর্থনৈতিক কমিশনও গঠন করেছি। কমিশনে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং যোগ্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ে দিনরাত কাজ করে থাকেন।

এরপর আমরা রাজনৈতিক বিষয় পরিচালনার জন্য একটি রাজনৈতিক কমিটি গঠন করেছি। ইমারতে ইসলামিয়ার সাংগঠনিক দিক, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয়ে কাজ করার জন্য আমরা একটি সাংগঠনিক কমিটিও গঠন করেছি।

আমরা আমাদের মানবিক সামর্থ্যের বাইরে মানুষের সমস্যা সমাধানে দিনরাত কাজ করেছি। এ লক্ষ্যে উল্লিখিত ও অন্যান্য কমিশনের অনেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা জনগণের সেবা করার জন্য আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সময় বিবেচনা করি না। তবে আমরা সর্বদা তাদের সেবায় নিয়োজিত।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে আমাদের আরও বেশি খেদমত করার তাওফিক প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ মানুষকে এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার এবং এই মহান নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ না হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমরা আপনাদেরকে ইসলামী ব্যবস্থার পাশে দাঁড়াতে বলি, দেশ ও ইসলামের শত্রুদের নেতিবাচক প্রচারণা দ্বারা নিজেকে প্রভাবিত হতে দেবেন না।

পরিশেষে, আমি সমগ্র জাতি ও মুজাহিদীনদের এই ইসলামী ব্যবস্থার গঠন ও স্থায়িত্বের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি সমস্ত দেশকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা আপনার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। এবং আপনার সাথে ভাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা সকল আন্তর্জাতিক দাতাদের আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে এবং এই কঠিন সময়ে আফগানদের সাহায্য করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

4 মন্তব্যসমূহ

  1. অসাধারণ বক্তব্য! আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা তালিবান ও ইমারাতে ইসলামিয়াকে সফলতা দান করুন। তাদেরকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত্ব রাখুন।সহজে সকল সমস্যার সমাধান করার যোগ্যতা ও মানসিকাতায় বারাকাহ দিন।
    আফগান জনগন ও মুজাহিদিনের মনোবল বাড়িয়ে দিন। তাদের আর্থিক সমস্যার সমাধান করুন আমিন।

  2. ইসলামি ইমারত আফগানিস্তানের ছায়াতলে রয়েছে শান্তি এবং নিরাপত্তা ৷ যা আফগান জনগণ পাচ্ছে ৷
    আফগানের মত এমন নজির ইতিহাসে বিরল!
    তাদের ক্ষমা,ত্যাগ,মহানুভবতা,বাদান্যতা ও উদারতার তুলনা হয় না ৷
    আল্লাহ আফগানের ভাইদের প্রতি রহম করুন! শক্তিশালী ইমারাহ দান করুন! আমিন,ইয়া রব্বাশ শুহাদা ওয়াল মুজাহিদিন ৷

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন