মালিতে ওয়াগনার ঘাঁটিতে ধ্বস নামাচ্ছে আল-কায়েদার অ্যাম্বুশ ও শহীদি অভিযান

ত্বহা আলী আদনান

0
922

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির মুসলিমরা পুরোদস্তুর প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, যার আগ্রভাগে রয়েছে আল-কায়েদা। দেশটিতে প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদার পশ্চিম আফ্রিকান শাখা জেএনআইএম ধারাবাহিক অভিযানে সামরিক জান্তা সরকারের পাশাপাশি রাশিয়ান ওয়াগনার বাহিনীর ঘাঁটিগুলোও গুড়িয়ে দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, মালিতে ৪ দিনের ব্যবধানে রাশিয়ার ওয়াগনার বাহিনীর ২টি সামরিক ঘাঁটিতে অ্যাম্বুশ ও ২টি শহীদি অপারেশন পরিচালনা করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম যোদ্ধারা। এতে সামরিক ঘাঁটি দুটির অনেক অংশই ধ্বসে যায় এবং কয়েক ডজন ওয়াগনার সৈন্য নিহত হয়।

জেএনআইএম যোদ্ধারা তাদের প্রথম শহীদি অপারেশনটি গত ২১ জুলাই শুক্রবার সকালে পরিচালনা করেন। অভিযানটি সেগোউ রাজ্যের বোকা-উইরী এলাকায় ওয়াগনার ও মালিয়ান সামরিক বাহিনীর যৌথ একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়। প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রথমে গাড়ি ভর্তি শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিভাইস দ্বারা ঘাঁটিতে ইস্তেশহাদী হামলা চালান। এর পরপরই ইনগিমাসী যোদ্ধারা আক্রমণ শুরু করেন। ফলশ্রুতিতে বহু সংখ্যক ওয়াগনার ও জান্তা সৈন্য হতাহত হয়। সেই সাথে সামরিক ঘাঁটি ও এর ভিতরে থাকা অনেক সাঁজোয়া যান এবং মজুদ করা প্রচুর পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়।


মুজাহিদগণ তাদের দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করেন গত ২৪ জুলাই সোমবার। মালির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের সেগোউ রাজ্যের মোলোডো এলাকায় ‘জেএনআইএম’ যোদ্ধারা ওয়াগনার বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে বোমা-বোঝাই ২টি গাড়িতে ইস্তেশহাদী যোদ্ধাদের প্রেরণ করেন। বিস্ফোরক ভর্তি প্রথম গাড়িটি ঘাঁটির লক্ষ্যবস্তু করা স্থানে পৌঁছে সফলভাবে বিস্ফোরিত হয়। ফলে ঘাঁটিতে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও শত্রুদের মধ্যে অনেক সৈন্য নিহত ও আহত হয়।

অপরদিকে দ্বিতীয় গাড়িটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরে তা আল্লার ইচ্ছায় বিস্ফোরিত হয়নি। ফলে গাড়িটিতে থাকা ২জন ইস্তেশহাদী মুজাহিদ মেশিনগান ও গুলাবারুদ নিয়ে ঘাঁটিতে নেমে পড়েন এবং অবশিষ্ট ওয়াগনার ভাড়াটে সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে অনেক ওয়াগনার সৈন্যকে হত্যা এবং আহত করেন।

‘জেএনআইএম’ এর মিডিয়া সূত্র উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযানের জন্য ঘাঁটিতে ৪ জন মুজাহিদ প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ২ জন প্রথম বিস্ফোরণের সময় শাহাদাত বরণ করেন। বাকি দুজন মুজাহিদ গাড়ি থেকে নেমে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে অনেক সৈন্যকে হত্যা করেন। একপর্যায়ে তাঁদের একজন শাহাদাত বরণ করেন এবং অন্যজন ঘাঁটি থেকে জীবিত ফিরে আসেন।

অন্যদিকে, মালিয়ান সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, আল-কায়েদার এই অভিযানে ঘাঁটিতে থাকা মাত্র ১ সৈন্য নিহত হয়েছে এব ৪ সৈন্য আহত হয়েছে। বিপরীতে আল-কায়েদার ১০ জন নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অথচ আল-কায়েদা জানিয়েছে যে, ২টি গাড়ি নিয়ে তাদের ৪ জন যোদ্ধা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল এবং একজন নিরাপদে ফিরে এসেছেন।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়ান ভাড়াটে সৈন্যরা মালিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সাথে সাথে এই অঞ্চলে অনেক গণহত্যা চালিয়েছে। এসব গণহত্যায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজারো নিরপরাধ বেসরকারি নাগরিক। বেসামরিক মানুষ হত্যা নিয়ে সময়ে সময়ে জাতিসংঘও বাধ্য হয়েছে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে।

আর বর্তমানে দেশটিতে ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী ‘জেএনআইএম’ এর আক্রমণের প্রধান টার্গেট হয়ে উঠেছে ওয়াগনার।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধআলোচনার টেবিলে সরকার শর্ত মানল, আল-শাবাব অবরোধ তুলে নিল
পরবর্তী নিবন্ধপুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে ভারতে রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু