
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় রমজান মাসের শুরুতেই মানুষদের জীবন অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধ এবং নানা সংকটের মধ্যে তারা সাহরি এবং ইফতার করতে গিয়ে নানা সমস্যা মুখে পড়ছেন। গাজার লাখো মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন, এবং অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্তকে আরও কঠিন করে তুলছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার গাজায় রমজান শুরু হলেও, সেখানে বসবাসরত মানুষদের জন্য প্রথম রাতটি ছিল চরম কষ্টকর। ভারী বৃষ্টিতে তাদের অস্থায়ী তাঁবু প্লাবিত হয়ে যায়। অনেকেই ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তাঁবুর ভেতরে পানি জমে গেছে এবং তাদের খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভিজে গেছে। এই কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে তাঁবু ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে, কিন্তু ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে সেটাও বেশ কষ্টকর ছিল।
যারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে গেছেন, তাদেরও একই অবস্থা। ফাঁকা দেয়াল ও ছাদের ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় তারা তেমন কিছু খেতে পারেননি। সাহরি সময় তারা শুধু শুকনো রুটি বা খেজুর দিয়ে রোজা শুরু করেছেন, আর কেউ কেউ শুধু পানি পান করে সাহরি করেছেন।
দিনভর রোজা রাখার পর গাজার মানুষ যখন ইফতারের অপেক্ষায় ছিলেন, তখনও তাদের জন্য ছিল খাদ্যসংকট। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য সংকট বেড়ে গেছে, ফলে অধিকাংশ মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় ইফতার সামগ্রী জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। যারা কিছুটা খাদ্য পেয়েছেন, তারা সাধারণত শুকনো রুটি, খেজুর এবং সামান্য পানি দিয়ে ইফতার করেছেন। রান্না করার মতো পর্যাপ্ত গ্যাস এবং বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই গরম খাবার প্রস্তুত করতে পারেননি।
গাজার বাসিন্দা মুহাম্মদ আল-মাসরি বলেন, “রমজান আমাদের জন্য আনন্দের সময় হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের জন্য আরও বড় কষ্ট নিয়ে এসেছে। আমরা ইফতারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছি না, আমাদের শিশুদের জন্য দুধ নেই এবং আমরা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
গাজার স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো গাজার বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে। গাজার পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মাহনা বলেন, যদি অবিলম্বে ত্রাণ সহায়তা প্রবাহিত না হয়, তাহলে পরবর্তী দিনগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে গাজার মানুষরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। রমজানের প্রথম দিন তাদের জন্য কঠিন হলেও, তারা ধৈর্য্য এবং সংযমের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ এখন আরও জরুরি, কারণ অবরোধ চলতে থাকলে গাজার মানুষদের রমজানের দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে।
তথ্যসূত্র:
1. Gaza marks Ramadan amid ruins, hunger after months of Israeli assault
https://tinyurl.com/48dnzwzu


