
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণের পর পশু কোরবানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঈদ-উল-আযহা আসন্ন থাকায় এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
নতুন এই আইনের আলোকে, গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ১৪ বছরের অধিক বয়সী এবং বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অসুস্থতার কারণে প্রজনন ও কাজে অক্ষম হয়ে পড়েছে এমন পশু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শংসাপত্র প্রাপ্ত হওয়া সাপেক্ষে কোরবানি করা যেতে পারে।
এছাড়া প্রকাশ্যে বা খোলা স্থানে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর কেবল সরকারি অনুমোদিত কসাইখানাগুলোতে কোরবানি করা যাবে। উক্ত আইনের আলোকে অবৈধ গবাদি পশুর বাজারজাত বন্ধ করতেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।
বিজেপি সরকারের দাবি, এটি নতুন কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বিদ্যমান আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বাস্তবায়ন। সরকারি নোটিশে ১৯৫০ সালের আইন এবং ২০১৮ সালের কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোরবানি করার আগে পশুর ভেটেরিনারি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক উল্লেখ আছে।
অপরদিকে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও দমন-পীড়নের লক্ষ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার আইনটি বাস্তবায়ন করছে বলে জোরালো দাবি করেছে সর্বস্তরের মুসলিমগণ। এবার মুসলমানদের পাশাপাশি এটির প্রভাব পড়েছে হিন্দু গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও খামারিদের ওপরও, বিশেষত যারা কোরবান কেন্দ্রিক পশু ব্যবসার উপর নির্ভরশীল।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা হতে বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ইসলামবিরোধী এই নিয়মের কারণে পশুর হাট ক্রেতাশূন্য হওয়ার অভিযোগ করছে হিন্দু ব্যবসায়ীরা।
ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছে, তারা কোরবানিতে বিক্রয়ের জন্য ইতোপূর্বে গরু কিনেছে, গরু ক্রয় ও মোটাতাজা করার জন্য তারা মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছে, এদিকে পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং কঠোর নিয়মের ভয়ে বাজার ক্রেতাশূন্য হয়ে গেছে।
এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেছে, “শত শত গরু স্থানীয় হাটে বিক্রি হয়নি, পরিবারগুলো ঋণ ও খাওয়াদাওয়ার চাপের মধ্যে পড়েছে। বিজেপি কেন আমাদের মুসলিমদের কাছে গরু বিক্রি করতে দিচ্ছে না? আমি ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এই পশুগুলো পালন করেছি। মুসলিমরা আমাদের কখনও ক্ষতি করে না। বিজেপি কেন আমাদের এই ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করছে? তাহলে আমাদের বিষ দিয়ে দিন।”
এক হিন্দু নারী মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারীর নতুন নিয়মের সমালোচনা করে বলেছে, “মুসলিমরা গরু কিনছে না, ফলে হিন্দু ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছে।” সে রাজ্যে কোরবানির পুরনো নিয়ম পুনরায় বহাল করার দাবি জানিয়ে বলেছে, “হিন্দুরা এভাবে বাঁচতে পারবে না।”
এক ব্যবসায়ী নরেন্দ্র মোদিকে এই গরু কিনে নেওয়ার কথা বলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গরু বিক্রি না হলে অনেকে আত্নহত্যা করবে বলেও নিজেদের কষ্ট তুলে ধরেছে।
মাগরাহাটে এক হিন্দু যুবক গরু বিক্রি করতে বাজারে আসে, কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম তাকে হাট থেকে বের হয়ে যেতে বলে, “আপনি গরুকে আপনার মা মনে করেন, তাহলে এটিকে কোরবানি করার জন্য কেন এখানে এনেছেন?”
এক মুসলিম ব্যবসায়ী ভিডিওতে বলেন, “আমরা গরু কিনব না, কারণ প্রশাসন আমাদের অনুমতি দিচ্ছে না।”
সমালোচকরা সতর্ক করেছে যে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা গরুর দুধ বিক্রয় করে ব্যবসা করে, তারাও নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অপরদিকে এই বছর কোরবানির জন্য গরুর পরিবর্তে ছাগল বা ভেড়া বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কলকাতার বেশ কয়েকজন প্রসিদ্ধ আলেম। তারা মুসলিমদের ওপর জুলুম ও সংঘাত এড়িয়ে চলতেই গরু কোরবানি এড়িয়ে যেতে উৎসাহিত করেছেন।
সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারত বিশ্বের প্রধান গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে পড়ে, অথচ এখানে ছোটখাটো পশু ব্যবসায়ীদের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://postimg.cc/gallery/8kSTB7H


