
ভারতের মধ্যপ্রদেশে ওয়াকফ বোর্ডে ২ হিন্দু সদস্য নিয়োগ দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার, এতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলো।
এই পদক্ষেপ মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে মুসলমানরা। ভারতের কোনও রাজ্য এই প্রথম ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য নিয়োগ দিয়েছে।
উক্ত নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে ৮ জুলাই ভোপালের বুধওয়ারা স্কোয়ারে জড়ো হয়েছিল মুসলিম বিক্ষোভকারীরা।
মুসলিমদের যুক্তি, ওয়াকফ বোর্ড মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্যে (যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, এতিমখানা নির্মাণ) মুসলমানদের আল্লাহর পথে দান করা সম্পত্তিগুলো পরিচালনা করা হয়। এখানে অমুসলিম সদস্য নিয়োগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এই বোর্ড একমাত্র মুসলিমদের একচেটিয়া প্রশাসনের অধীনে থাকতে হবে, যা প্রথাগতভাবে অনেক আগে থেকেই চলে এসেছে।
এর আগে ওয়াকফ আইন-১৯৯৫ অনুসারে, রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে কেবল মুসলিম সদস্যগণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিছু সদস্য রাজ্য সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদেরকে মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের শাসনামলে ২০২৫ সালে ওয়াকফ আইন সংশোধন করা হয়। বিতর্কিত এই সংশোধনী আইনে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে কমপক্ষে ২ জন অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে নিয়ম চালু করা হয়।
বিরোধী দলীয় অনেক রাজনৈতিক নেতা বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন ও ওয়াকফ বোর্ডে হিন্দু নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছে।
আরিফ মাসুদ নামে কংগ্রেসের এক বিধায়ক মন্তব্য করেছে, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তা সত্ত্বেও হিন্দু নিয়োগের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত ওয়াকফ আইনের প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত জুড়ে মুসলমানদের মসজিদ, মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ধ্বংসের হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/33kfthpj
2. https://tinyurl.com/328j4ra9


