
২০ জুলাই (সোমবার) ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। নতুন ছাত্র সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর মোড়ে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়।
নিট (মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা যাওয়া নিট প্রার্থীদের জন্য ১ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও দাবি তোলা হয়।
বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে এই আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে আন্দোলনকারীদের উপর টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ প্রয়োগ করে পুলিশ। সূত্রমতে, ৫০ এরও অধিক বিক্ষোভকারী হতাহত হয়েছে, এছাড়া আটক হয়েছে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ মঞ্চ ভেঙে দেওয়া সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি নেতারা।
ভারতের বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের রক্ষা করছে। অপরদিকে ছাত্রদের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর দমন করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সবচেয়ে যুব বিরোধী প্রধানমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানির সময় বেকার যুবকদের একাংশকে উপহাস করে ‘তেলাপোকা’ বা ‘ককরোচ’ এর সাথে তুলনা করেছিল। এরপরই ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আত্মপ্রকাশ ঘটে। কিন্তু খুব দ্রুত ভারতের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা ও তীব্র বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্মে পরিণত হয় দলটি।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/dfdufwch


