
মালির সেনাবাহিনী (জান্তা) ঘোষণা করেছে যে, তারা তুরস্ক থেকে সরবরাহ করা নতুন আকিনজি সশস্ত্র মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) হাতে পেয়েছে।
জান্তার দেওয়া বিবৃতি অনুসারে, গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার, মধ্য মালির মোপ্তি রাজ্যের সেভারে শহরে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আকিনজি ড্রোনগুলো জান্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ড্রোনগুলো মালির বিমান বাহিনীর অস্ত্রাগারে যুক্ত করা হয়েছে। এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো জান্তা বাহিনীর প্রধান সহ একাধিক শীর্ষ জান্তা কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, মালির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচির আওতায় এই ড্রোন সংগ্রহ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিজয় অভিযান রুখতে জান্তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মালির জান্তা প্রশাসন তুরস্ক থেকে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে তাদের বিমান শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা জোড়ালোভাবে চলছে। তারা জানিয়েছে যে, আকিনজি ইউএভিগুলো তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং আক্রমণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের “সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য যে, মালিতে ২০২০ সালের আগস্ট এবং ২০২১ সালের মে মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, আসসিমি গোইতার নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী মালির প্রাশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কুক্ষিগত করে। এসময় নতুন জান্তা সরকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ফ্রান্স এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সামরিক সহযোগিতা মূলত বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করে।
একই সময়ে, বামাকোর জান্তা প্রশাসন তুরস্কের সাথে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও গড়ে তুলে। তুরস্ক থেকে তারা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বায়রাক্তার টিবি২ এবং আকিনজি ইউএভি সংগ্রহ করে।
এবিষয়ে তুরস্ক জানায় যে, এই সহযোগিতার লক্ষ্য হচ্ছে দেশটিতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দমন করা এবং তাদের ক্রমবর্ধমান বিজয় অভিযান প্রতিহত করা। তুরস্ক দেশটির জান্তার সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহায়তা প্রদান এবং সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মতো সংবেদনশীল কাজগুলো পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মালির সেনাবাহিনী এখন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য মালিতে তুরস্ক-নির্মিত চালকবিহীন আকাশযান সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
তবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে যে, তুরস্কের সরবরাহ করা এসকল বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নতুন করে প্রাণঘাতী এসকল ড্রোন হস্তান্তরের দিনেও উত্তর মালির কিদাল রাজ্যে জান্তার ড্রোন হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে মালির জান্তা সরকার বলে আসছে যে, এই অভিযানগুলো “সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে লক্ষ্য করে” পরিচালিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
https://x.com/i/status/2083115523244491244


