
দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বাণিজ্য বান্ধব নীতিকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রশাসন। এর ফলস্বরূপ চলতি বছরেও আফগানিস্তানের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসেও আফগানিস্তানের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থিতিশীল থাকা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ থেকে কমে ৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আফগানির মূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে এবং জাতীয় মুদ্রা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতির হার কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বেড়েছে। এর ফলে আফগান পণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসে আফগানিস্তানের রপ্তানি ৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বস্ত্রপণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ভারতের বাজারে আফগান পণ্যের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে এবং মোট রপ্তানির ৩৩.৬ শতাংশই ভারতে গেছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জুন মাসে আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজস্ব ১৭.৩ বিলিয়ন আফগানিতে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রাজস্ব আদায়ে ৮.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইমারাতে ইসলামিয়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বিকল্প ট্রানজিট পথের ব্যবহার, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদন দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সেই ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
1. بانک جهانی: رشد اقتصادی افغانستان به اندازهای نیست که سطح زندگی مردم بهبود یابد
– https://files.fm/u/jjdbv23xcz


