
ইয়েমেনে সক্রিয় আল-কায়েদা’র আরব উপদ্বীপ শাখা তানজিম কায়িদাতুল জিহাদ ফি জাজিরাতুল আরব (একিউএপি) তাদের তিন সদস্যকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ এর অফিশিয়াল ‘আল-মালাহেম মিডিয়া’ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে কোনো কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠনটি নেবে না। একই সঙ্গে, অন্য সদস্যদের তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর আরব উপদ্বীপে আল-কায়েদা উক্ত শাখা থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: খালিদ আব্দুল হাকিম আওয়াদ আতিফ (যিনি ‘কারার আল-আওলাকি’ নামে পরিচিত), আহমেদ বাসাবরিন (যিনি ‘আসসাফ বাসাবরিন’ নামে পরিচিত) এবং মুহাম্মদ সালিহ হুসাইন আল-নাকিব (যিনি ‘মুহাম্মদ কুবা’ ও ‘সাবরি আল-হুমাইকানি’ নামে পরিচিত)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে কোনো কাজ করলে তার দায়ভার সংগঠনটি বহন করবে না। এছাড়া, অন্য সদস্যদের তাদের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগ করা থেকে স্পষ্টভাবে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
‘ইয়েমেন প্রেস এজেন্সি’-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ঠিক কী ধরনের নির্দেশনা এই তিন ব্যক্তি মানতে ব্যর্থ হয়েছে বা তাদের বহিষ্কারের সুনির্দিষ্ট কারণ কী—সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তবে বিবৃতির শুরু পর্যায়ে ৪টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, যাদের মধ্যে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে তারা নিসন্দেহে পূর্ণ মুনাফিক। কেননা এই ধরনের ব্যক্তিরা আমানত পাওয়ার পর বিশ্বাসঘাতকতা করে, মিথ্যা বলে, অঙ্গিকার ভঙ্গ করে এবং তর্কের সময় গালিগালাজ করে।
উল্লেখ্য যে, আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ (একিউএপি) শরিয়াহ্ প্রতিষ্ঠা ও পশ্চিমাদের বিতাড়িত করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সংগঠনটির উপস্থিতি এখনো বজায় রয়েছে।


