আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধের প্রোপাগান্ডা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল ইমারাতে ইসলামিয়া

0
1

আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধের প্রোপাগান্ডা প্রত্যাখ্যান করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। অথচ সরকারের কোনো প্রকাশিত বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ ছাড়াই দ্য টেলিগ্রাফ কয়েকজন চিকিৎসকের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ দাবি প্রচার করেছে, যা আফগানিস্তানকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের দৃষ্টান্ত। যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা অপসাংবাদিকতা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোরই শামিল।

আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অসংখ্য ইতিবাচক খবর থাকা সত্ত্বেও নেতিবাচক অভিযোগকে প্রমাণ ছাড়াই অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে কয়েকজন চিকিৎসকের বরাতে দাবি করা হয়, মৌখিক নির্দেশের কারণে আফগানিস্তানের কয়েকটি হাসপাতালে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের বক্তব্য কোনো দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। এ ধরনের দাবি সরকারি নিষেধাজ্ঞা হিসেবে প্রকাশের আগে নির্দেশের উৎস ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

আফগান সংবাদমাধ্যম ‘হিজাজ ফার্সি’ ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিষেধাজ্ঞার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়া, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানান, তাঁর মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধের কোনো ঘোষণা দেয়নি। তাছাড়া আলোচিত প্রতিবেদনগুলোতে আনুষ্ঠানিক সরকারি নিষেধাজ্ঞার দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ আবরণ, যা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এ চিকিৎসা নিয়ে শরিয়তের বিধান আলোচনার ক্ষেত্রে অঙ্গদান, অঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে অঙ্গ প্রতিস্থাপনকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এসব বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মানবদেহের অঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া মানেই সব ধরনের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ হওয়া নয়।

সুতরাং শরিয়তের বিধান নিয়ে আলোচনা করা এক বিষয়, আর সরকার এ চিকিৎসা নিষিদ্ধ করেছে বলে দাবি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আলোচিত প্রতিবেদনগুলোতে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ নেই। অতএব, যাচাই ছাড়া এমন অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করে আফগানিস্তান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় নয়। সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধান, সরকারি বক্তব্য যাচাই এবং ইতিবাচক-নেতিবাচক সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ন্যায্য গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা।


তথ্যসূত্র :
1. ابهام درباره توقف پیوند قرنیه در افغانستان؛ وزارت صحت عامه این اد
– https://tinyurl.com/yz99cayw

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২০১৯ সাল হতে জম্মু-কাশ্মীরে ১৬ হাজারের বেশি নারী-শিশু নিখোঁজ, এখনও খোঁজ মেলেনি ৪,২৭১ জনের