
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে মালিয়ান সেনাবাহিনী এবং তাদের মিত্র রাশিয়ান আফ্রিকা কর্পসের অবস্থানের উপর বড় ধরনের সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাআত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন – জেএনআইএম। এতে ৭টি ড্রোন ও ৫টি হেলিকপ্টার ধ্বংস এবং ৩৩ জান্তা ও রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে।
আয-যাল্লাকা মিডিয়া কর্তৃক ২০শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, জেএনআইএম যোদ্ধারা গত ১৪ সেপ্টেম্বর, মধ্য মালির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের সফল অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানটি মধ্য মালির মোপ্তি রাজ্যের সেভারে বিমানঘাঁটি এবং কোনা শহরে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যায়, সেভারে বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে জেএনআইএম যোদ্ধারা দুই দফায় এই হামলাটি চালান। প্রথম দফা ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে একাধিক মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে চালানো হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফা ভোররাত ৩টার দিকে প্রায় এক ডজন আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে চালানো হয়েছে।
জেএনআইএমের বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলায় বিমানঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি আকাশযান এবং এভিয়েশন সংক্রান্ত সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। এসময় বিমানবন্দরে থাকা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং রাডার সিস্টেমও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যমে একটি ড্রোন ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা যায়। এই হামলায় বিমান ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জান্তা বাহিনী গোপন করার চেষ্টা করলেও স্থানীয় সূত্রগুলো প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, জেএনআইএম-এর হামলায় ৫টি হেলিকপ্টার ও ৭টি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া এসব আকাশযানের মধ্যে রয়েছে তুরস্কের দেওয়া ৪টি বায়রাকতার আকিনচি ড্রোন ও টিবি২ ড্রোন, ২টি Mi-24 ও Mi-35 অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ২টি Mi-8 ও Mi-17 পরিবহন হেলিকপ্টার এবং ১টি Su-25 অ্যাটাক এয়ারক্রাফট। আত্মঘাতী ড্রোন ও ভারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাম্পের ভিতর থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উপরে উঠছে।
জেএনআইএম তাদের বিবৃতিতে তুর্কি ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংসের তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি উল্লেখ করেছে যে, তাদের অভিযানে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ায় মালিয়ান জান্তা বাহিনী নজরদারি সক্ষমতায় বড় ধাক্কা খেয়েছে।
সেভারের পাশাপাশি কোনা সেনা ক্যাম্পেও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরিচালিত অভিযানের ছবি প্রকাশ করেছে জেএনআইএম। বিবৃতি অনুযায়ী, দুটি সামরিক অবস্থানে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই আক্রমণে অন্তত ৩৩ মালিয়ান সেনা (জান্তা) ও রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পসের সদস্য হতাহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জেএনআইএম-এর এধরণের ড্রোন হামলা দামেস্ক বিজয়ের কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছে, যখন আত্মঘাতী যোদ্ধার পরিবর্তে ব্যাপকভাবে আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। জেএনআইএম আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে শুধু সেনা সদস্যদেরকেই লক্ষ্য করে নি বরং জান্তার শক্তির উৎস ও মনোবল ভেঙে দিয়েছে। বিশেষ করে তুর্কি ড্রোন ও রাশিয়ার সামরিক হেলিকপ্টারগুলোর উপর এ ধরনের ধারাবাহিক আঘাত জেএনআইএমের আসন্ন কোনো বড় অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেননা এতোদিন যাবৎ মালিতে জেএনআইএম-এর বিরুদ্ধে ড্রোনই ছিল সরকারি (জান্তা) বাহিনীর প্রধান সুবিধাজনক অস্ত্র, আর বর্তমানে সেগুলোই জেএনআইএম-এর স্বল্প মূল্যের আত্মঘাতী ড্রোনের সফল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল শুরু হওয়া উত্তর মালির কিদাল যুদ্ধেও জেএনআইএম ও তাদের মিত্র আজওয়াদ যোদ্ধারা একাধিক আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যখন তারা তুরস্ক ও রাশিয়ার ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কেন্দ্রকে সচল করে জেএনআইএম বর্তমানে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।


