
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নৃশংস এ ঘটনার পর অভিযুক্তদের প্রাণনাশের হুমকির কারণে দুই দিন ঘরবন্দি ছিল তারা। পরে স্বজনদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলায় নয়ন মিয়া (২৮) ও ফারুক (৩০) নাম উল্লেখ করে আরও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর ছদ্মনাম লিলি। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তিনি।
লিলি গণমাধ্যমে জানান, গত ছয় মাস ধরে হানু মার্কেট এলাকার হারুনের বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। সম্প্রতি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে সোমবার (১২ অক্টোবর) বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর কাজ শুরু করেন তারা। এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন বাসায় এসে তার স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যায়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও স্বামী ফিরে না আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়ি ফেরেন।
লিলি জানান, রাত সাড়ে ৮টার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়ন আরও দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাদের আচরণ বদলে যায়। তারা তার স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে।
লিলি আরও জানান, ফারুক তাকে জানান, তার স্বামীর কাছে টাকা পাওনা থাকায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর তার কথামতো কাজ করলে দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন ফারুক। এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও অপর এক ব্যক্তি তার হাত বেঁধে ফেলে। গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং দুই পা দুই দিকে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী বলেন, তিনি বারবার তাদের কাছে বাবা ও ভাই বলে আকুতি-মিনতি করলেও তারা শোনেনি। চারজন মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় অভিযুক্তদের ভয়ে আশপাশের কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি করছিল। তাদের ভয়ে তিনি থানায় যাওয়ার সাহস পায়নি। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সহযোগিতায় থানায় এসে বিচার চাইতে পেরেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, তাকে পাশের ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়, তার স্ত্রী টাকা আনতে গিয়েছেন। তবে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হচ্ছে, তা তাকে জানানো হয় নি।
তিনি জানান, সবকিছু শেষ হওয়ার পর তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। বিচার চাইতে বের হতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভয়ে তারা বের হতে পারেননি। পরে কৌশলে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনকে খবর দিলে তাদের সহযোগিতায় থানায় আসেন।
এদিকে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
তথ্যসূত্র:
১। স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী
– https://tinyurl.com/yu8b54vc


