কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

0
3

টানা চার দিনের অতিভারী বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিস্তীর্ণ জনপদ এখন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোমরপানি, কোথাও বিচ্ছিন্ন সড়কযোগাযোগ, আবার কোথাও পাহাড়ধসের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে হাজারো মানুষের।

ইতিমধ্যে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে, পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখে চালু করেছে জরুরি কন্ট্রোল রুম এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পেকুয়ার সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, শিলখালী, টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।

বহু পরিবার ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন জনপদ।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা তিন দিনে জেলায় মোট ৬৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু শেষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদদের মতে, স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। টইটং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ঘেঁষা হাজারো পরিবার এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পেকুয়ার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বিলম্ব না করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
১। পেকুয়ায় পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, প্রস্তুত ৭১ আশ্রয়কেন্দ্র
– https://tinyurl.com/mr36em5c

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধত্রিপুরার খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দিয়েছে ভারত, হবিগঞ্জে বিপৎসীমার ওপরে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
পরবর্তী নিবন্ধপাবনার চাটমোহরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা