কেন হত্যা করা হয়েছিল আবরারকে?

1
1326
কেন হত্যা করা হয়েছিল আবরারকে?

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র দেশপ্রেমিক আবরার ফাহাদকে খুন করা হয়েছে আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে। ২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর দিবাগত রাত ৮টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের ২০১১ নাম্বার রুমে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায় হিন্দুত্ববাদীদের দালাল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এরপর হিন্দু নেতা অমিত সাহার নেতৃত্বে গভীর রাত পর্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করে ওরা। আবরারের সারাটা দেহে আঘাতের চিহ্নগুলো খুনিদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের সাক্ষী দেয়। [১]

আবরার ফাহাদ ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক। দেশের স্বার্থে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি বলিষ্ঠস্বরে কথা বলতেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর থেকে নিয়ে ভারতের সাথে বেশকিছু বৈষম্যমূলক চুক্তি সম্পাদন করে এ দেশের সরকার। বর্তমান হাসিনা-সরকারও সেই ধারা অব্যহত রেখেছে। ভারতকে ছাড় দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে নতুন নতুন চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। যেমন: চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান, প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাংলাদেশের রাস্তা ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য যাতায়াত, ভারসাম্যহীন বাণিজ্য চুক্তি, পানিবণ্টন চুক্তি ইত্যাদি। এই চুক্তিগুলো অনেকক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। ইতিহাস সাক্ষী, আগ্রাসী ভারতকে বাংলাদেশ অনেককিছু দিলেও, ভারত বাংলাদেশের সাথে বার বার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নানাভাবে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করেছে। বাধ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে অসময়ে বন্যা সৃষ্টি কিংবা পানি ধরে রেখে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে খরা সৃষ্টি ভারতের নিয়মিত অপরাধগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়া, আগ্রাসী ভারতের জঘন্যতম আরেকটি নীতি হলো সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশী মুসলিমদের হত্যা করা। [২]

ভারতের এসব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন দেশপ্রেমিক মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন। মৃত্যুর আগের দিনও ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি এবং ভারতের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। [৩] আর এ কারণেই ভারতের এই দেশীয় দালালরা হিন্দু নেতা অমিত সাহার নেতৃত্বে আবরার ফাহাদকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করেছে। আবরার ফাহাদের খুনিরা এই হত্যাকাণ্ডের আরেকটি কারণ উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, আবরার সহপাঠীদেরকে নামাজের দাওয়াত দিতেন। আর এই কারণেও হিন্দুত্ববাদের দালাল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আবরারের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল।

ভারতবিরোধিতা এবং ইসলামি মনোভাবের হওয়াই মূলত আবরারকে হত্যার পেছনে মূল কারণ। ঘটনার পর পর এই কারণগুলো অল্প করে হলেও মিডিয়াতে এসেছিল। কিন্তু এখন মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এগুলো একেবারে চেপে যাচ্ছে। আবরারের হত্যার পেছনে ভারত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ধামাচাপা দিচ্ছে। আবরারের হত্যাকে ভার্সিটির সাধারণ র‌্যাগিং কালচারের মতো তুলে ধরছে। এমনকি সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান দালাল মনিরুল বলেছে, আবরারকে হত্যার পেছনে নাকি বড়ো ভাইদের সালাম না দেওয়া কিংবা এই ধরনের সাধারণ বিষয়গুলো ছিল![৪]

আবরার ফাহাদ ৫ই অক্টোবর বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দ্বিমুখী আচরণের যৌক্তিক সমালোচনা করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এর আগেও তিনি ভারতের দ্বিমুখী আগ্রাসী আচরণের সমালোচনা করতেন। পাশাপাশি আবরার ছিলেন ধার্মিক মুসলিম। আর এসব কারণেই যে তাঁকে মুশরিক অমিত সাহার নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছে, তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। আবরারকে হত্যার পর তাঁকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা, এমনকি আবরারের কক্ষে মাদক রেখে গণপিটুনিতে নিহত হিসেবেও প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে ওরা। কিন্তু ছাত্রদের সতর্ক অবস্থানে খুনিদের এমন চিন্তা ব্যর্থ হয়েছে। [৫]

আবরার ফাহাদ হিন্দুত্ববাদী ভারতের আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ে জীবন বিলিয়ে দিয়ে এ অঞ্চলের মুসলিমদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন। তিনি যেন নিজের রক্ত দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেলেন, ইসলাম ও মুসলিম ভূমির হেফাজতে হিন্দুত্ববাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিতে হবে, রক্তভেজা পিচ্ছিল পথে হাঁটতে হবে; তবুও হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের ব্যাপারে কোনো আপোষ চলবে না।

লেখক: সাইফুল ইসলাম


তথ্যসূত্র:

১. এক আসামির ভয়ংকর বর্ণনা, প্রথম আলো; https://bit.ly/3DCzaVB

২. ভারত-বাংলাদেশ যত চুক্তি, ডয়েচে ভেলে; https://bit.ly/3Iz6ss6

৩. আবরার ফাহাদের ফেসবুক পোস্ট: https://bit.ly/3rSYYdX, https://bit.ly/3oxLiCY

৪. বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার চার্জশীট: যেসব কারণ খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা, বিবিসি বাংলা; https://bbc.in/3GngIC7

৫. আবরার হত্যা: মাদক দিয়ে ‘গণপিটুনির নাটক’ সাজাতে চেয়েছিল ছাত্রলীগ, বাংলা ট্রিবিউন; https://bit.ly/31LbTmT

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন