সংকটে পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

0
4

টাকার সংকটে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক। চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানায়, ‘ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনো টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এরপর গত দুই দিনে আমানতের পরিমাণ আরও কমেছে।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

এরপর থেকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে গ্রাহকরা। গ্রাহকদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কয়েক দিনের টানা আন্দোলনে ব্যাংকটির গ্রাাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে আতঙ্কিত অনেক গ্রাহক নিজেদের আমানতের টাকা তুলে নেন। গতকালও (৯ জুন) নবম দিনের মতো এই আন্দোলন চলে। গতকাল সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে শতাধিক নারী গ্রাহকও অংশ নেয়। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীরা বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তারা তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আন্দোলন করা গ্রাহকদের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮ (ক) ধারা বাতিল, এস আলমের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয়, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয় – এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারে – সেই ব্যবস্থা করা, ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক লুটকারীকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

জানা যায়, শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের দখলমুক্ত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন। ব্যাংকটির ৫০ শতাংশ ঋণ এখনো খেলাপি। এস আলমের ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে একসময়ের ভালো ব্যাংকটি এখন আর্থিক সংকটে ভুগছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটি। এর আগেও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়েছিল।


তথ্যসূত্র:
১। ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক
– https://tinyurl.com/2chuwcbj

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে ডাকাতি করতে এসে অস্ত্রের মুখে প্রবাসীর স্ত্রী-কন্যাকে ধর্ষণ
পরবর্তী নিবন্ধআফগান ভূখণ্ডে আবারও পাক সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর হামলা, ১১ শিশুসহ শহীদ ১৩