
ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের উপযুক্ত ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের এক মুসলিম মহিলাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ। ১৯ জুলাই স্থানীয় একটি বাজারে যাওয়ার পথে বেআইনিভাবে ঐ মহিলাকে আটক করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মহিলা হলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপদাহ গ্রামের বাসিন্দা সাহিদা ফকির, তার স্বামীর নাম জুম্মান ফকির। নিবন্ধন অনুযায়ী সাহিদার জন্ম ১৯৯৫ সালে। তার পিতা-মাতাও পশ্চিমবঙ্গের নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। তাদের নাম ২০০২ সালের স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সাহিদার কাছে ভোটার আইডি কার্ড, প্যান কার্ড, জন্ম সনদ এবং জমির রেকর্ডসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ডকুমেন্ট রয়েছে। রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, সাহিদা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং তিনি ভারতের সমস্ত সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোনও বিচার বা আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ ব্যতীত ভুক্তভোগীকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ ও সিআইডি কর্মকর্তারা। আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার নিয়ম থাকলেও প্রায় ৯০ ঘন্টা পার হলেও তাকে হাজির করা হয়নি, বরং পুলিশি হেফাজতেই রাখা হয়। এছাড়া তাকে তার পরিবার বা কোনও আইনজীবীর সাথে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
উক্ত বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রধান বিচারপতির নিকট অভিযোগ দাখিল করেছে বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (এমএএসইউএম) নামে একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন। সংগঠনটির অভিযোগ, এই আটকের ঘটনাটি ব্যক্তির সাংবিধানিক স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন, একই সাথে তা সরকারি কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা পুলিশের নেই। কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করার এখতিয়ার তাদের নেই।
ভুক্তভোগী সাহিদাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তার দ্রুত মুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের নিকট আবেদন করেছে সংগঠনটি। একই সাথে তার বেআইনি গ্রেপ্তারের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/bdef6y4d


