মোগাদিশুতে ক্রুসেডার জোটের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটিতে আল-কায়েদার দুর্দান্ত অভিযান: ৩২ দখলদার খতম

ত্বহা আলী আদনান

4
1065
মোগাদিশুতে ক্রুসেডার জোটের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটিতে আল-কায়েদার দুর্দান্ত অভিযান: ৩২ দখলদার খতম

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার রাজধানীতে ক্রুসেডার AMISOM জোট বাহিনীর বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক ঘন্টার একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন আশ-শাবাব মুজাহিদিন। এতে ৩২ ক্রুসেডার সহ বহু সংখ্যক সোমালি গাদ্দার সৈন্য হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মার্চ বুধবার, সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে একটি শক্তিশালী অভিযান চালায় প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাব। যা রাজধানীতে অবস্থিত ক্রুসেডার আফ্রিকান জোট ‘AMISOM’ এর সর্ববৃহৎ হেলিনি ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়। এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

হেলিনি ঘাঁটিটি সোমালিয়ায় দখলদারদের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্রুসেডার আমেরিকান, ব্রিটিশ এবং ইতালীয় দূতাবাস সহ পশ্চিমা দূতাবাসগুলি।
CIA, MI6 এবং মোসাদ সহ বেশ কয়েকটি গুপ্তচর সংস্থার সদর দপ্তর।
সোমালিয়ার বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ কারাগার। যা সিআইএ দ্বারা পরিচালিত।
  জাতিসংঘের অফিস এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংস্থা।
আফ্রিকান ক্রুসেডার কমান্ড বেস (AMISOM)।
   – সোমালিয়ায় সিআইএ নজরদারি এবং ড্রোন অপারেশনের জন্য মার্কিন কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।

আর আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ঐদিন সকাল থেকে অভিযান চালাতে শুরু করেন। অভিযান ঐদিন দুপুরের বেশ কিছু সময় পরেও জারি ছিল।

আশ-শাবাবের সহযোগী সংবাদ মিডিয়া জানায় যে, মুজাহিদগণ হামলার প্রথম দিকেই হেলেনি ঘাঁটির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন। এসময় ঘাঁটিটির প্রধান গেটে পাহারারত আফ্রিকান বাহিনীর বেশ কিছু সৈন্যকে হত্যা করার মাধ্যমে বরকতময় এই অভিযানটি শুরু করেন বীর মুজাহিদরা। ঘাঁটিতে ঢুকার পরেই আশ-শাবাব যোদ্ধাদের হামলার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয় জাতিসংঘ ও আমিসোম জোটের সদর দপ্তর, পশ্চিমা দূতাবাস এবং বিদেশী কূটনীতিকদের আবাসস্থলগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনাগুলোতে বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি মুজাহিদগণ টার্গেট করে করেও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হত্যা করেন। হারাকাতুশ শাবাবের বীর যোদ্ধাদের এমন দুর্দান্ত অভিযানের ফলে ৪ জন ঊর্ধ্বতন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং ১৩ জন আফ্রিকান ক্রুসেডার নিহত হয়। এই অপারেশনে দখলদার আফ্রিকান জোটের আরও ১৫ ক্রুসেডার আহত হয়। এছাড়াও উক্ত অভিযানে ক্রুসেডারদের গোলাম সোমালি গাদ্দার সামরিক বাহিনীরও বহু সংখ্যক সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে।

এরপর হারাকাতুশ শাবাবের বীর মুজাহিদরা পশ্চিমা দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক মিশনের সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে আফ্রিকান বাহিনী এবং সরকারী মিলিশিয়াদের অবস্থানে হামলা চালাতে শুরু করেন।

হারাকাতুশ শাবাবের বীর মুজাহিদদের তীব্র এই যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় বাহির থেকে হেলেনি সামরিক ঘাঁটি থেকে কেবল ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠতে দেখা যায়।

অভিযানের সময় হারাকাতুশ শাবাব যোদ্ধারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘাঁটির ভিতরে অবস্থিত দখলদারদের বেশ কয়েকটি সদর দপ্তর পুড়িয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় ঘাঁটি থেকে পলায়নপর পশ্চিমা ও আফ্রিকান জোটের কর্মকর্তা এবং সেনাদের নির্মূল করার অভিযান। মুজাহিদগণ চতুর্দিক থেকে বিদেশি দখলদার ও আঞ্চলিক গাদ্দারদের টার্গেট করে করে হত্যা করতে থাকেন।

ঘাঁটিতে অভিযান চলাকালীন সময়ে দখলদার ও গাদ্দার বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকবার ঘাঁটিটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিবারই মুজাহিদদের প্রবল অভিযানের মুখে কুফ্ফার বাহিনীর সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

ঘাঁটিতে অবস্থানরত মুজাহিদরা নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁরা ঐদিন যোহরের সালাতের আগে আফ্রিকান জোট বাহিনী এবং সরকারী মিলিশিয়াদের পরপর ৪ টি আক্রমণ প্রতিহত করেন। সেই সাথে তখনও পর্যন্ত কোন মুজাহিদ হতাহত ছাড়াই তারা ঘাঁটিতে নামাজ আদায় করেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন তাদের বরকতময় এই অভিযানটি শুরু করার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর, রাজধানী মোগাদিশুর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হেলেন ঘাঁটির পাশে অবস্থিত মোগাদিশু বিমানবন্দরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাব বরকতময় এই অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানায় যে, আশ-শাবাবের বীর যোদ্ধারা মুসলিম দেশগুলি থেকে কাফেরদের বিতাড়িত করার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর নির্দেশনা মেনেই সিদ্ধান্তমূলক এই আক্রমণটি চালিয়েছেন। দলটির মুখপাত্র আরও জানান, সমগ্র সোমালিয়া ক্রুসেডারদের কবল থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাদের সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এধরণের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবেন।

4 মন্তব্যসমূহ

  1. এই হিন্দে যে কবে আমরা এরকম বরকতময় অপারেশন করবো🥺 বাঁধ মানছে না মনে।

    হে হিন্দু মালাউনরা, শুনে রাখ! তোরা গণহত্যার দিকে আগাইতেছিস না, বরং এক বিশাল জিহাদের পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছিস! আমরা সেই জাতি, যারা তরবারির ছায়ায় জান্নাতের ঘ্রাণ খুঁজে বেড়াই।

    বিইযনিল্লাহ! মালাউন কোপামু!!!

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন