আফগানিস্তান পুনর্গঠন অগ্রযাত্রার সূত্রাপাত

- মুহাম্মাদ ইকবাল

0
299
সুবিধামত ফন্ট ছোট বড় করুনঃ

বর্তমানে আফগানিস্তান উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের একটি ইতিবাচক ধাপ অতিক্রম করছে। ইমারতে ইসলামিয়ার বিজয় ও ইসলামিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর এই ভূমির প্রকৃত উত্তরাধিকারীগণ তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে এবং স্বদেশকে এগিয়ে নিতে নিজ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবদান রাখার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞা করেছে।

সম্প্রতি প্রকিউরমেন্ট কমিশন ২৪ টি ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পগুলো সাথে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত রয়েছে, যেমন জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য, পানি ও শক্তি, (ডিএবিএস) বৈদ্যুতিক সংস্থা ও কাবুল পৌরসভা। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আনুমানিক প্রায় ১০ বিলিয়ন আফগানি ব্যয় ধার্য্য করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোতে বিস্তৃত পরিসরের কার্যক্রম অন্তর্ভূক্ত। যেমন পরান্দে পাঞ্জশির মাইক্রো-হাইডেল পাওয়ার বাঁধ নির্মাণ, জাবুল টরি বাঁধের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা, কাবুলের প্রধান প্রধান সড়কের উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সেবার সংস্থান এবং নগর ও প্রত্যন্ত উভয় অঞ্চলে নাগরিকদের উচ্চমান সম্পন্ন ও দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবার ব্যবস্থা করা। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো আফগান নাগরিকবৃন্দের জন্য অসংখ্য কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টি করবে ইনশাআল্লাহ। আবাসন, পুনর্গঠন ও জনগণের জন্য অনুকূল কাজের পরিবেশ তৈরির জন্য প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রমান বহন করে।

ইমারতে ইসলামিয়া তার প্রিয় নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব সঠিকভাবে ব্যবহার করতে নিবেদিত ও প্রতিস্রুতিবদ্ধ।

আজ আফগানরা প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প চালু ও উদ্বোধনের খবর শুনেন, যা এক অর্থে মুসলিম জাতির জন্যই আনন্দদায়ক।

বিগত দুই বছরের শাসনামলে ইমারতে ইসলামিয়া কোনোরূপ বৈদেশিক সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় রাজস্বের উপর নির্ভর করে অধিবাসীদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অভিনব সব পরিষেবা সরবরাহ করে আসছে।

বিগত দুই দশক ধরে পূর্ববর্তী সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যথেষ্ট আর্থিক সহায়তা পাওয়া সত্ত্বেও, দেশের অগ্রগতি ও পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। যখন ইমারতে ইসলামিয়া সরকার আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন আফগান ভূমি ধ্বংসস্তূপে পড়েছিল। অলিগলিতে হাজারো মানুষ মাদকাসক্ত পড়ে থাকতো। কিন্তু ইমারতে ইসলামিয়ার উদ্যোগ গ্রহণের সাথে সাথে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। পুনর্বাসন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কর্মকর্তাগণ কর্মপরিকল্পনা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামি ইমারতের মুকুটে অর্জনের পালক যুক্ত হতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।



ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অফিসিয়াল সাইট থেকে অনুদিত
মূল লেখক: তালহা মুবারিজ বাদাখশানী


তথ্যসূত্র:
1. Afghanistan Embarks on the Journey of Reconstruction
https://www.alemarahenglish.af/59381-2/

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসালেহ আল-আরৌরির দুই বোনকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী
পরবর্তী নিবন্ধগাজায় দখলদার ইসরায়েলী আগ্রাসনের শততম দিন: হতাহত ও নিখোঁজ ১ লাখ