শিক্ষা ব্যবস্থা || পর্ব-৪ || এইচ.এস.সি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও হিন্দুত্ববাদ

1
1162

গত ৬ নভেম্বর বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। প্রশ্নপত্রে দেখে বুঝার উপায় নেই এটি বাংলাদেশ নাকি ভারতের কোন অঙ্গরাজ্য। ঢাকা বোর্ডের বাংলা প্রশ্নে কৌশলে নয় বরং সরাসরি ইসলাম বিদ্বেষী প্রশ্ন করা হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম শিক্ষার্থীকে এই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

প্রশ্নপত্রে যা ছিল:

ঢাকা বোর্ডের সৃজনশীল প্রশ্নের ১১ নম্বর প্রশ্নে হিন্দু ধর্মের দুই ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের বিষয় তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘ দিনের।

অনেক শালিস বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আবদুল নামে এক মুসলিম ব্যাক্তির কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আবদুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। কুরবানির ঈদে আবদুল বাড়ির সামনে গরু কুরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙ্গে যায়। কিছু দিন পর কাউকে কিছু না বলে জায়গা জমি ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

উল্লেখিত উদ্দীপকের ভিত্তিতে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। মোট নম্বর ১০। প্রশ্নগুলো হচ্ছে: ক. মীর জাফর কোন দেশ হতে ভারতে আসেন? খ. ‘ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই’ সম্ভব ব্যাখ্যা কর? গ. উদ্দীপকের নেপাল চরিত্রের সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের মীর জাফর চরিত্রের তুলনা কর? ঘ. খাল কেটে কুমির আনা প্রবাদটি উদ্দীপক ও সিরাজউদ্দৌলা নাটক উভয়ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য- উক্তিটির সার্থকতা নিরূপণ কর।

এখানে স্পষ্টভাবেই শিক্ষার্থীদের মনে দু’টি বিষয় বদ্ধমূল করে দেওয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে।

প্রথমত, তারা উদ্দীপক আর প্রশ্নে কথার মারপ্যাচে এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে যে, মুসলিমরা এই উপমহাদশে বহিরাগত। মুসলিমের কাছে জায়গা বিক্রির উদাহরণ আর মির জাফর কোন দেশ থেকে এসেছে সেই প্রশ্নের মাধ্যমে তারা এই মিথ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে।

দ্বিতীয়ত, তারা বুঝাতে চেয়েছে যে, গরু কোরবানি দেয়া একটি খারাপ কাজ। বহিরাগত ব্যক্তির এই কোরবানি দেওয়ার কারণেই ‘নিরীহ’ নেপাল এই দেশ ছেড়ে, নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে ভারত চলে গেছে!

এভাবে তারা একই সাথে মুসলিমদেরকে বহিরাগত এবং অপরাধি সাব্যস্ত করে তাদের প্রতি ঘৃণা উস্কে দিয়েছে। পাশাপাশি হিন্দুদেরকে এখানকার ভূমিপুত্র এবং ‘নিরীহ’ ও নির্যাতনের শিকার সাব্যস্ত করে তাদের প্রতি সকলের দয়া ও করুণা উদ্রেকের ব্যবস্থা করেছে।

অথচ এই ইতিহাস তারা চেপে যায় যে, হাজার বছরের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে হিন্দুদের উপরে অন্যায়-জুলুম করা হয়নি, কোন হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি, তার চোখের সামনে তার সন্তানকে হত্যা করা হয়নি, কিংবা গর্ভবতী কোন হিন্দু নারীর পেট চিঁড়ে বাচ্চা বের করে তাকে আগুনে ঝলসানোও হয়নি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কাউকে গুম-গ্রেফতার বা উচ্ছেদও করা হয়নি। অথচ ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দুরা ক্ষমতা লাভের পর মুসলিমদের সাথে এর সবই করেছে। ইতিহাস তার সাক্ষী।

পশু কোরবানি দেয়া হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে একটি ফরজ বিধান। এটা হিন্দু বিরোধীতার কোন বিষয় নয়। বরং হিন্দুরাই তাদের ধর্মগ্রন্থে গো-ভক্তির কথা না থাকার পরেও, এই ইস্যু তৈরি করে মুসলিম বিদ্বেষ বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের মনে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা উস্কে দিচ্ছে।

পাঠ্যক্রমে গরু কোরবানি নিয়ে দালাল সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠীর বিরোধীতা নতুন কিছু নয়। আপনাদের নিশ্চয় মনে থাকার কথা ২০১৩ সালের নবম-দশম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইয়ের ৮১ ও ৮২ পৃষ্ঠায় শরিয়তের উৎস অধ্যায়ে দেবদেবীর নামে উৎসর্গকৃত পশুর মাংস খাওয়া হালাল বলা হয়েছিল (নাউযুবিল্লাহ)। অথচ আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৭৩ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শূকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও নামে উৎসর্গ করা হয়।’ অর্থাৎ, হিন্দুত্ববাদের দালাল এদেশের সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠী যে করেই হোক আমাদের ঈমানকে ধ্বংস করে দিতে চায়। পরে অবশ্য মুসলিমদের সমালোচনার মুখে দেবদেবীর নামে উৎসর্গকৃত পশু খাওয়ার অংশটুকু বাদ দিয়েছিল দালাল সরকার।

এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম, এবং বেশিরভাগ মানুষই ধার্মিক। তারা চায় নিজ সন্তান যেন ইসলামি আদর্শের উপর বেড়ে উঠে। কেননা শিশু বয়সে বাচ্চাদের যা শেখানো হয়, তারা সেটাকেই সঠিক ও ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং আজীবন তা অন্তরে লালন করে। স্বাভাবিকভাবেই, বড় হয়েও তারা ঐ শিক্ষার অনুসারী হয়। এ কারণে মুসলিম ছেলেমেয়েদের ঈমানী চর্চা শিশুকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় নিজ নিজ পরিবারে বা কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে।

অথচ ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশ বাংলাদেশের কথিত সেক্যুলার এলিট শাসকগোষ্ঠীর একদল ভারতের দালালি এবং আরেকদল পশ্চিমাদের তাবেদারি করে রাষ্ট্রীভাবে ইসলাম ও ঈমান বিরোধী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছেলেমেয়েদেরকে সরাসরি কুফরি বিষয়বস্তু পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষাক্রমের উন্নয়নের নামে ইসলামী বিষয়বস্তুগুলো বাদ দিয়ে ঢোকানো হচ্ছে হিন্দুয়ানী ও নাস্তিক্যবাদী বিষয়বস্তু।

দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একটি ইসলাম বিরোধী শিক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এমনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রনয়ন করা হয়েছে যে, এই শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র সেক্যুলার ধ্যান-ধারণাই লালন করবে। সেক্যুলার শাসকগোষ্ঠীর হিন্দুত্ববাদী ও পশ্চিমা আগ্রাসী শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে আপামর মুসলিম জনতাকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, এবং পশ্চিমা ব্যবস্থা উতখাত করে ইসলামি ব্যবস্থায় ফিরে আসার প্রয়াস চালাতে হবে।



লেখক : মুহাম্মাদ ইব্রাহীম



ধ্বংসাত্মক সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও জানতে আগের পর্বগুলো পড়ুন –

১। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নেপথ্য কাহিনী – (১)-
https://alfirdaws.org/2020/11/19/44369/
২। নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যবই: মুসলিমরাও ‘ঈশ্বরের সন্তান’-শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে?-
https://alfirdaws.org/2022/10/11/59874/
৩। শিক্ষা ব্যবস্থা || পর্ব-৩ || অষ্টম শ্রেণিতে ‘মানব ধর্ম’-এর নামে নাস্তিকতা পাঠদান-
https://alfirdaws.org/2022/10/22/60124/



তথ্যসূত্র:
১। এইচএসসির প্রশ্নে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
https://tinyurl.com/yr8xr8p7

১টি মন্তব্য

  1. প্রশ্ন কারিকে খুঁজে বের করা হোক এবং এই মালাউন নামে মুসলমান হলেও হত্যা করে শিক্ষা দেওয়া দরকার যেন এখনি এই চক্র
    দূর্বল হয়ে পরে

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন