
আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম
এই উম্মত যুগে যুগে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়ে এসেছে। বিশেষত, কাফিরদের পক্ষ থেকে উম্মত আদিকাল ধরে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। এবং প্রতিবারই কাফিরদের আক্রমণে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মুজাহিদিনে উম্মত। আমাদের সময়ও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এ যুগের আলোচনা করার পূর্বে চলুন ঘুরে আসি অতীত থেকে। দেখে আসি, কিভাবে মুসলিমরা কাফিরদের কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মুজাহিদিনে উম্মত তাদের জন্য বারে বারে ঢাল হয়ে হাজির হয়েছেন।
ইসলামের শুরুর কাহিনী
ইসলামের শুরু হয়েছিল মক্কার তপ্ত মরুতে। উম্মতের জনসংখ্যা তখন ছিল খুবই অল্প। সেই গুটিকয়েক ঈমানদারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত মক্কার হীন মুশরিকরা এবং চালাত অত্যাচারের স্টিম রোলার। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আল্লাহর ফরমান অনুযায়ী সবরের দীক্ষা দিতেন। তখনও জিহাদের হুকুম নাযিল হয়নি। মক্কি জীবনের গোটা ১৩ বছর ছিল মুসলিমদের এক ক্রান্তিকাল। কিন্তু চিত্রপট পালটাতে লাগল মদিনায় হিজরতের পর। প্রথমে জিহাদের অনুমোদন ও পরবর্তীতে নির্দেশ আসল।
ইসলামের প্রথম যুদ্ধ হল বদরের ময়দানে। মাত্র ৩১৩ জন মুজাহিদ রাসূলুল্লাহর নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়লেন জিহাদের ময়দানে। ঠিক যুদ্ধের পূর্ব-মুহুর্তে নবীজি যে দুয়া করেছিলেন তা শুনে আজও সেই বিভীষিকাময় অবস্থার চিত্র অনুমান করা যায়।
فَاسْتَقْبَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقِبْلَةَ ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ ” اللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي اللَّهُمَّ آتِ مَا وَعَدْتَنِي اللَّهُمَّ إِنْ تَهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةُ مِنْ أَهْلِ الإِسْلاَمِ لاَ تُعْبَدْ فِي الأَرْضِ ” . فَمَازَالَ يَهْتِفُ بِرَبِّهِ مَادًّا يَدَيْهِ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ حَتَّى سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ مَنْكِبَيْهِ
অর্থঃ “অতঃপর আল্লাহর নবী ﷺ কিবলামুখী হলেন, তারপর তাঁর দু’হাত প্রসারিত করলেন এবং তাঁর রবের কাছে কাতর কণ্ঠে ডাকতে লাগলেন: “হে আল্লাহ! তুমি আমার সাথে যে ওয়াদা করেছ তা পূরণ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ তা দাও। হে আল্লাহ! যদি ইসলামের এই দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে যমিনে আর তোমার ইবাদত করা হবে না।” তিনি এভাবে কিবলামুখী হয়ে দু’হাত প্রসারিত রেখে তাঁর রবের কাছে কাতর কণ্ঠে ডাকতেই থাকলেন — এমনকি তাঁর চাদর তাঁর কাঁধ থেকে পড়ে গেল। (সহীহ মুসলিম)
রাসূলুল্লাহর এই কথাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণঃ “হে আল্লাহ! যদি ইসলামের এই দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে যমিনে আর তোমার ইবাদত করা হবে না।”
এর অর্থ দাঁড়ায়, বদরের যুদ্ধে মুজাহিদিনরাই ছিলেন উম্মতের প্রথম সারীর রক্ষাকবচ, এবং একই সাথে শেষ সারীর রক্ষাকবচ। যদি মুজাহিদগণ বিফল হতেন, ধ্বংস হত জনপত, শেষ হয়ে যেত মুসলমানদের প্রাণ, নিঃশেষ হত ইসলাম। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় মুজাহিদরা বিজয় ছিনিয়ে আনলেন এবং ইসলামের ধারাবাহিক বিজয়ের শুরু হল এরই মাধ্যমে।
বদরের অংশগ্রহণকারীরা কুরআনে এমন একটি দল হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন যাদের —
আল্লাহ সরাসরি ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছেন
প্রশান্তি ও পবিত্রতার বিশেষ নেয়ামত দিয়েছেন
তাদের কাজকে নিজের কাজ বলে ঘোষণা করেছেন
তাদের মাধ্যমে হককে প্রতিষ্ঠিত করেছেন
এরপর প্রতিটি যুদ্ধেই, হোক গাজওয়া বা সারিয়্যাহ, সাহাবিগণ জিহাদের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম উম্মতকে রক্ষা করেছেন। রাসূলের যুগের পরও যুগে যুগে মুজাহিদগণ উম্মতকে রক্ষা করে এসেছেন এবং ইসলামকে বিজয়ী করেছেন। আমরা যদি সেসব যুদ্ধের তালিকা করতে চাই, তাহলে হয়তো গণনা করে শেষ করা যাবে না।


