
বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আসামে বন্যা শুরুর পর গত এক সপ্তহে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ৩১ জনে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইস্যু করা এক বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ আসাম স্টেড ডিজাস্টার অথরিটি (এএসডিএমএ)।
চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আসামে বন্যা শুরু হয়েছে এবং দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এএসডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির ৩৫টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার ৮৭২টি গ্রামেই বন্যা দেখা দিয়েছে। আসামের বন্যা উপদ্রুত জেলাগুলো হলো— গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সনিতপুর, উদলগিরি, নাগাঁও, চারাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, তিনসুকিয়া, কারবি আঙলং, লখিমপুর এবং শিভাসনগর। এসব এলাকার ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনের অধিক মানুষ বন্যার প্রত্যক্ষ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি উপদ্রুত অবস্থায় আছে তিন জেলা— শিবসাগড় (আক্রান্ত ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন), চারাইদেও (আক্রান্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ জন) এবং জোরহাট (আক্রান্ত ৫০ হাজার ৯৮৭ জন)।
আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এএসডিএমএ জানিয়েছে, আপার আসামের অনেক আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
বন্যার কারণে সড়ক, রেল লাইন ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর) শাখার প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগড় জেলার সিমালুগুড়ি শহর ও তার আশেপাশে ব্যাপক বন্যার কারণে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেনঘাট সেকশনে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
এএসডিএমএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং, ধানসিঁড়িসহ আসামের প্রায় সবগুলো নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণেই বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mf4wv99z
2. https://www.dhakapost.com/international/469153


