
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনসেবার আধুনিকায়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। যে রাষ্ট্রগুলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। প্রযুক্তির বিকাশ যত দ্রুত হয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত গতিশীল হয় এবং জনগণের জন্য সেবা প্রদান তত সহজ ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কাবুলে পাঁচ দিনব্যাপী টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক স্টলে দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রযুক্তিপণ্য, উদ্ভাবন ও সেবা উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের আয়োজন শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রই নয়, বরং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশের জন্যও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তির বিস্তার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সরকারি ও বেসরকারি সেবা ডিজিটাল হলে সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় হয়, প্রশাসনিক জটিলতা কমে এবং সেবার গতি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তোলে।
একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্যও প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ডিজিটাল বিপণন, ই-কমার্স এবং আধুনিক তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।
তথ্যপ্রযুক্তি খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল সেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের তরুণরা শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেন। ফলে এই খাত বেকারত্ব হ্রাস এবং মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের বিকাশ বিনিয়োগ সম্প্রসারণেরও বড় সুযোগ সৃষ্টি করে। টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট অবকাঠামো, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবায় বিনিয়োগ বাড়লে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা চালু হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হয়। এতে জনগণের ভোগান্তি কমে এবং রাষ্ট্রীয় সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার পর থেকে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দেশব্যাপী টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি খাতে দেশীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাবুলে আয়োজিত প্রথম টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আফগানিস্তানকে আঞ্চলিক তথ্য ও যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইমারাতে ইসলামিয়ার অঙ্গীকারকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
তথ্যসূত্র
1. Technology Expo in Kabul and the Development of Economic Opportunities
– https://tinyurl.com/y5463m83


