বিহারে আখড়ায় সমাবেশের পর হিন্দুত্ববাদীদের সহিংসতা : মুসলিমদের উদ্বেগ

0
387

বিহারের সিওয়ান জেলার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পুরানী বাজারে অবস্থিত মুসলিমদের দোকানপাটে আগুন দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। গত ০৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মহাবীর আখড়ায় সমাবেশের পর উগ্র হিন্দু জনতা মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান দিয়ে সহিংসতা শুরু করে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, শতাধিক সশস্ত্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান দিচ্ছে এবং অশ্লীল গান বাজিয়ে মুসলিমদেরকে উসকানি দিচ্ছে। এক পর্যায়ে তারা সহিংসতা শুরু করে। হিন্দুত্ববাদী পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বলা যায় হিন্দুদের গার্ড দিতে থাকে যেন মুসলিমরা কোন বাধা দিতে না পারে।

জনাব রিজওয়ান আহমেদ একজন ব্যবসায়ী। তিনি এখনও বিহারের বারহারিয়ার পুরানী বাজারে অবস্থিত তার পোড়া মুদির দোকানে যেতে পারেন নি। হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা তার দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। জনাব আহমেদ বলেন, “এটাই ছিল আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস।…আমরা সম্প্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছি এবং দোকানে নগদ কিছু টাকাও ছিল। আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে মহাবীর আখড়ায় সমাবেশের পর উগ্র হিন্দু জনতা মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান দিয়ে আমাদের দোকানে হামলা শুরু করে। তারা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা কিছু করতে পারেনি। এক পর্যায়ে আগ্রাসী হিন্দু জনতা আমাদের দোকান পুড়িয়ে দিতে শুরু করে।”

হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন হিন্দুদের হামলা থেকে আমাদের দোকানগুলোকে রক্ষা করেনি। এমনকি রক্ষা করার চেষ্টাও করেনি। তারাই আবার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। যেন মুসলিমরা কোন প্রতিবাদ করতে না পারে।

জনাব রিজওয়ান আহমেদ আরো বলেন, “আমাদের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির কারণে এখনও আমাদের পোড়া দোকানগুলোতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।” হামলাকারী হিন্দুদের আটক না করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী পুলিশ উল্টো মুসলমানদেরকে গ্রেপ্তার করছে। আমি আশঙ্কা করছি তারা আমাকেও আটক করবে।

সিওয়ান পুলিশ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য রিপোর্ট দায়ের করেছে, যার মধ্যে ২৫ জনই মুসলমান এবং ১০ জন হিন্দু এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে সন্ধ্যার নামাজের জন্য জড়ো হওয়া মুসলিম মুসল্লিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে একজন আট বছর বয়সী ছেলে এবং তার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ দাদাও রয়েছে।

হিন্দুত্ববাদী পুলিশ ৭০বছর বয়সী মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং তার আট বছর বয়সী নাতি রিজওয়ান কোরেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিবার জানিয়েছে যে, উভয়ই নির্দোষ। এ ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। মোহাম্মদ ইয়াসিন সম্প্রতি দুটি (অস্ত্রোপচার) অপারেশন করেছেন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। এমন বার্ধক্য জনিত অসুস্থ অবস্থায় ৬০ ঘন্টার অধিক সময় পাড় হওয়ার পরেও তাদেরকে কারাগারে আটকে রেখেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে পুলিশ তাদের মুক্তির জন্য বিরাট অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে।

বারহারিয়ায় বসবাসকারী আরেকজন বাসিন্দা মোহাম্মাদ আরমান। ২৩ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবক। যার বাড়ি হিন্দু জনতা ভাংচুর করেছে। তিনি বলেন, “আক্রমনাত্মক হিন্দু জনতা গালাগালি ও চিৎকার করে আমার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং দরজায় আঘাত করে, তাদের লাঠি দিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে দেয়। তারপর আমার বাইক ভাংচুর করে।”

মোহম্মদ আরমান আরও উল্লেখ করেছেন যে, কীভাবে হিন্দু জনতা একটি মুসলিম ছেলেকে পাথর দিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। এবং সে তার ফোনে তাদের মুসলিম বিদ্বেষী অপরাধ ভিডিও করছে বুঝতে পেরে তাকে গালিগালাজ করে।

বারহারিয়ার আরেক বাসিন্দা তৌসিফ বলেছেন, বৃহস্পতিবার হিন্দু জনতা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার রুটে তাদের সমাবেশ শুরু করে,মুসলিম বিদ্বেষী স্লোগান দিয়ে উস্কানিমূলক গান বাজাতে থাকে।” তার বাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত হিন্দু জনতা।

“মুসলিমরা যখন মসজিদের ভিতরে আসরের নামাজ আদায় করছিল তখন তারা পুরানী বাজারের মসজিদ পার হচ্ছিল। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করলে কিছু লোক বাধা দেয়। যার ফলে হিন্দুত্ববাদীরা উত্তেজিত হয়ে সহিংসতা শুরু করে।”

হামলার পর থেকেই মুসলিমরা আতঙ্কে আছেন। কারণ হিন্দুত্ববাদী পুলিশ হামলাকারী হিন্দুদের আটক না করে মুসলিমদেরকেই আটক করছে। এলাকা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে মুসলিমদের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।

সব মিলিয়ে মুসলিমরা ভয়াবহ অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছেন। পুরো ভারত জুড়েই হিন্দুত্ববাদীরা হত্যযজ্ঞ, রাহাজানির মাধ্যমে মুসলিমদের আতঙ্কে রেখেছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে হিন্দুত্ববাদীদের মোক্ষম জবাব দেওয়া ব্যতীত এই আতঙ্ক থেকে মুক্তির কোন বিকল্প পথ দেখছেন না ইসলামিক বিশ্লেষকগণ।



প্রতিবেদক : উসামা মাহমুদ



তথ্যসূত্র:
———
1. Bihar: Muslims feel anxious after violence during Mahavir Akhara rally
https://tinyurl.com/mr3m6j5j

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন