আরাকান আর্মি ও বর্মি সেনাদের চতুর্মুখী নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা

ইউসুফ আল-হাসান

1
535

মিয়ানমারের রাখাইনে রাজ্যে চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গা মুসলিমরা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মি উভয়ই সমানতালে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে এখন। এদের নির্যাতনের মুখে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার নিজেদের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

বাংলাদেশে সদ্য আগত রোহিঙ্গা মুসলিমরা জানিয়েছেন, রাখাইনের মংডু এবং বুদিডং শহরে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা প্রতিদিন মায়ানমারের সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী এবং আরাকান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি সশস্ত্র মগগোষ্ঠীও খুব চড়াও হয়েছে তাদের ওপর।

আরাকান আর্মি নামক বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা মিডিয়ায় দাবি করেছিল যে, তারা ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব প্রদান করবে। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিবে। অন্যদিকে হলুদ মিডিয়া আরাকান আর্মিকে ভাল সাজিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

কিন্তু সদ্য আগত রোহিঙ্গা মুসলিমরা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর থেকে কোন অংশে কম নয় আরাকান আর্মি। আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা মুসলিমদের থেকে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি করছে, চাঁদা না দিলে এলাকা থেকে উচ্ছেদ ও নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করছে। পাশাপাশি তারা রোহিঙ্গা যুবকদের হত্যাও করছে।

নির্যাতনের মুখে ধানখালি দূর্গম চরে আরও আট নয়শো রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন আগত রোহিঙ্গারা। একজন রোহিঙ্গা মুসলিম নারী জানান জে, আরাকান আর্মির কিছু মগ সদস্য তাকে উত্তক্ত করায়, তার স্বামী প্রতিবাদ জানান। পরে তারা তার স্বামীকে মেরে উনাকেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, স্বর্ণ দেওয়ার লোভও দেখায়। পরে তিনি তার মুসলিম পরিচিয় তুলে ধরে তাদেরকে অবিশ্বাসী সম্বোধন করেন, এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের হুমকির মুখে প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে চলে আশেন অসহায় ঐ মুসলিম নারী।

যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার। এখন আবার নতুনভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাসীর কেউই মিয়ানমারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। কথিত জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থা সবসময়ই কয়েকটি দায়সারা বিবৃতি আর চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে লোকদেখানো ভ্রমণ ছাড়া কিছুই করতে পারেনি।

তবে যারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করছে। তাদেরকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে মিডিয়া। রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা সংগঠনের মধ্যে আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) অন্যতম। যারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে মিয়ানমার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ করেছেন। মিয়ানমারের বর্বর সেনাদের পাশাপাশি তারা আরাকান আর্মির হামলারও মোকাবেলা করছেন। অথচ হলুদ মিডিয়া তাদেরকেই কিনা সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করছে। যাদের জন্য তারা যুদ্ধ করছেন, সেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কাছেই তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে এই দালাল মিডিয়া। রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যার দায়ও পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়; যেটিকে এক সাক্ষাতকারে বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন আরসা প্রধান।

অনেক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাকান আর্মির উত্থানের পিছনে পশ্চিম শক্তি কাজ করছে। আর এজন্যই পশ্চিমাদের এজেন্ট দালাল মিডিয়া আরাকান আর্মির পক্ষপাতী। মিডিয়ার এই ধোঁকাবাজি প্রচারণায় মুসলিমদের সচেতন হবার পরমার্শ দিয়েছেন তাঁরা। সেই সাথে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুদশা থেকে উদ্ধার ও তাদের স্বাধীনতার জন্য নববী সুন্নাতের অনুসরণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।



তথ্যসূত্র:
——-
1. The remaining Rohingya in Maungdaw and Buthidaung townships are being beaten every day by the Myanmar terrorist army and AA rebel groups
https://tinyurl.com/3z3xvzzu

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন